শ্রীমঙ্গলে সার ডিলারদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

শাকির আহমেদ:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সার ডিলারদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন কতিপয় ডিলার। খাতা কলমে ডিলারশীপ থাকলে, অনেকেই নেই কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আবার একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে রয়েছে সারের ডিলার। এতে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছেন। সচেতন মহলের দাবী সিন্ডিকেট না ভাঙলে কৃষকরা তাদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। অভিযোগ আছে, প্রকাশ্যে নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না ডিলারদের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বিসিআইসির সারের ডিলারশীল নিয়োগ দেয় তৎকালিন সরকার। তারা হলেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভা এলাকার জন্য মোমিনুল হোসেন সোহেলের মালিকানাধীন সোহেল এন্টারপ্রাইজ, ১ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়ন এলাকার জন্য হাজী মস্তান মিয়ার মালিকানাধীন জলি এন্টারপ্রাইজ, ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়ন এলাকার জন্য সুজিত দেবের মালিকানাধীন ইকো এগ্রিকালচার স্টোর, ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন এলাকার জন্য অনুকুল চন্দ্র দাশের মালিকানাধীন জননী এন্টারপ্রাইজ, ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়ন এলাকার জন্য পলাশ দেবের মালিকানাধীন মিতালী এন্টারপ্রাইজ, ৫ নম্বর কালাপুর ইউনিয়ন এলাকার জন্য দিপলু আহমদের মালিকানাধীন সায়মা ট্রেডার্স, ৬ নম্বর আশীদ্রোন ইউনিয়ন এলাকার জন্য স্বপন কপালীর মালিকানাধীন মনমোহন ট্রেডার্স, ৭ নম্বর রাজঘাট ইউনিয়ন এলাকার জন্য ওয়াহিদুজ্জামানের মালিকানাধীন জামান ট্রেডার্স, ৮ নম্বর কালিঘাট ইউনিয়ন এলাকার জন্য শান্ত কপালীর মালিকানাধীন উত্তরা ট্রেডার্স এবং ৯ নম্বর সাতগাঁও ইউনিয়ন এলাকার জন্য পরিমল দাশের মালিকানাধীন রাহুল ট্রেডার্স। পরবর্তীকালে ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়ন এলাকার ডিলার সুজিব দেব মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী অর্পনা দেবের নামে এবং ৭ নম্বর রাজঘাট ইউনিয়ন এলাকার ডিলার ওয়াহিদুজ্জামান মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী আবিদা সুলতানা চৌধুরীর নামে ডিলারশীপ পরিবর্তন করা হয়। এসব পাইকারী সার ডিলার ছাড়াও নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় আরো ৬৪ জনকে খুচরা সার বিক্রেতা হিসেবে ডিলারশিপ প্রদান করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, যে দশজন সারের ডিলারশিপ নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের ছাড়া নিয়োগকালে আর কাউকে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। যারা নিয়োগ পেয়েছিলেন তারা তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক জাতীয় পার্টির কর্মী-সমর্থক। ফলে ওই দশজনই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বিসিআইসির সারের ডিলারশিপ ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। ওই দশ ডিলারের মধ্যে আবার একই পরিবারের একাধিক ডিলারও রয়েছেন। ১ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নের ডিলার হাজী মস্তান মিয়া, তার ছেলে বদরুল ইসলামের নামে রয়েছে পৌর এলাকায় সাব ডিলার। ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন এলাকার ডিলার অনুক‚ল চন্দ্র দাশের আপন ভাই পরিমল দাশ ৯ নম্বর সাতগাঁও ইউনিয়ন এলাকার ডিলার এবং অনুকূল চন্দ্র দাশের দুই শালা(অর্থাৎ বৌয়ের ভাই) পান্না লাল দাশ, বকুল দাশের নামে পৌর এলাকায় রয়েছে সাব ডিলার এবং পান্না লাল দাশ নিজে জানেন না তার নামে যে সাব-ডিলার রয়েছে। অপরদিকে ৬ নম্বর আশীদ্রোন ইউনিয়ন এলাকার ডিলার স্বপন কপালী ও ৮ নম্বর কালীঘাট ইউনিয়ন এলাকার ডিলার শান্ত কপালী ভাতিজা (আপন ভাইয়ের ছেলে)। শ্রীমঙ্গল পৌরসভা এলাকার জন্য মোমিনুল হোসেন সোহেলের মালিকানাধীন সোহেল এন্টারপ্রাইজ বর্তমানে তিনি রাজনীতি মামলায় জেলে রয়েছেন তার নামে সার উত্তোলন করেছেন সিন্দুরখানের ডিলার মিতালী এন্টার প্রাইজ এর পলাশ। পরিমল দাশের ও দুই শালা (অর্থাৎ বৌয়ের ভাই) এর ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন অনুক‚ল চন্দ্র দাশ এবং শান্ত কপালীর ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন স্বপন কপালী। আবার খুচরা সাব ডিলার অনেকেই করছেন না ব্যবসা, তাদের নামে রয়েছে সাব-ডিলার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকার মোমিনুল হোসেন সোহেল শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি । ১ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নের ডিলার হাজী মস্তান মিয়া ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি, ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়ন এলাকার ডিলার সুজিত দেবের পরিবার আওয়ামী লীগের সমর্থক। সুজিব দেবের স্ত্রী অর্পনা দেবের ছোট ভাই সুব্রত দেব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বাকি ডিলারদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বা সমমনা দলের কর্মী-সমর্থক।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ