সঞ্চিতার বই হুবহু কপি করে বাজার দখলের অভিযোগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর বাংলাবাজার দেশের বই প্রকাশনা ও পাইকারি বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও দীর্ঘদিন ধরেই এখানে সক্রিয় রয়েছে নকল বইয়ের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এবার সেই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সঞ্চিতা ও অক্সফোর্ড প্রেস অ্যান্ড পাবলিশার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. নোয়াব আলী খাঁনের অভিযোগ, তার প্রকাশিত একাধিক বই হুবহু নকল করে বাজারে বিক্রি করছে নিউ বিক্রমপুর বুক হাউজ অ্যান্ড স্টেশনারি। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী খলিফা নূরে আলম, যিনি বড় মগবাজার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করলেও তার নকল বইয়ের সরবরাহ ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাবাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়।
পরিকল্পিতভাবে নকল, টার্গেট সঞ্চিতার বই:
অভিযোগে বলা হয়েছে, সঞ্চিতার যেসব বই স¤প্রতি বাজারে এসেছে, সেগুলোকে লক্ষ্য করেই দ্রæত নকল সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। কাগজ, ছাপা, প্রচ্ছদ ও ভেতরের কনটেন্ট প্রায় একই রকম হওয়ায় সাধারণ পাঠক ও খুচরা বিক্রেতারা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। প্রকাশক মো. নোয়াব আলী খাঁন বলেন,এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি পরিকল্পিত নকল বাণিজ্য। কম দামে নকল বই বাজারে ছাড়িয়ে আমাদের প্রকাশিত আসল বই বিক্রির পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে প্রমাণ, মিলেছে নকল বই :
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্টরা সরেজমিনে বিভিন্ন দোকান ও গুদাম পরিদর্শন করেন। এ সময় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণসহ নকল বই উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নকল কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। একাধিক বই বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নকল বই কম দামে আসে। অনেক সময় বুঝে ওঠার আগেই বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। মৌলিক স্বত্ব লঙ্ঘন, প্রকাশনা শিল্প হুমকিতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সরাসরি কপিরাইট আইন লঙ্ঘন। নকল বই শুধু একজন প্রকাশককে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং লেখক, পাঠক এবং পুরো প্রকাশনা শিল্পকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়। এক প্রকাশনা বিশ্লেষকের ভাষ্য, যদি এভাবে প্রকাশ্যেই নকল বই বিক্রি হয় এবং কোনো শাস্তি না হয়, তাহলে মৌলিক প্রকাশনা টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। এ ঘটনায় মো. নোয়াব আলী খাঁন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নীতিমালা স্ট্যান্ডিং কমিটির আহŸায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রের সঙ্গে নকলকৃত বই ও মূল প্রকাশিত বইয়ের নমুনা কপি সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি দাবি জানান, দ্রæত ব্যবস্থা না নিলে নকল বইয়ের এই চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। নকল বইয়ের মতো গুরুতর অপরাধ প্রকাশ্যেই চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশনা সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভ্রাম্যমাণ আদালত, কপিরাইট অফিস ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত অভিযান ছাড়া এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ