স্পোর্টস ডেস্কঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল এখন ভিন্ন ভ‚মিকায়, আলোচনার কেন্দ্রে। প্রায় দুই যুগ আগে ব্যাট-প্যাড গুটিয়ে রাখা এই তারকা এখন দায়িত্ব পালন করছেন দেশের অন্যতম শক্তিশালী ক্রীড়া সংস্থা-বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান হিসেবে। কেবল ইতিহাসের পাতায় নাম তোলা ক্রিকেটার বলেই নয়, আরও বড় কারণ রয়েছে তার আলোচনায় আসার।
দীর্ঘদিন আইসিসিতে হাই-প্রোফাইল পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছেড়ে এসেছেন দেশের ক্রিকেটের জন্য, ভালোবাসার টানে। নিরাপদ, স্থিতিশীল ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার চাকরি ছেড়ে এভাবে বিসিবির চেয়ারে বসা তার জন্য সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। শুরুতে তাই অস্বস্তিও ছিল, কেমন হবে পথচলা, কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন। তবে সময়ের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন দেশের ক্রিকেটের জটিল বাস্তবতায়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই ঘোষণা দিয়েছিলেন, স্বল্প সময়ের জন্যই এই আসনে বসতে এসেছেন, যেন একটি টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলে আবার মাঠ ছাড়বেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন মাস পার হয়ে এখন মনে হচ্ছে, সেই ইনিংসটা হয়তো একটু লম্বাই করতে চাইছেন তিনি। তার কাজের ধরন এবং উপস্থাপিত পরিকল্পনা বোঝাচ্ছে, তিনি ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে নতুন কিছু করতে চান। বিসিবির কার্যক্রমে এনে দিয়েছেন নতুনত্বের ছাপ। ‘ত্রিপল সেঞ্চুরি’ নামের দীর্ঘমেয়াদি ভিশন, ‘পাইলট প্রোগ্রামিং’ মডেলসহ বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি ক্রিকেট বোর্ডে একেবারেই আলাদা ধরনের নেতা হিসেবে আসীন হয়েছেন। ঢাকার ক্রিকেট সংগঠকরাও সেটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
বুলবুলের এই অবস্থান নতুন আলোচনারও জন্ম দিয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। এখনও তার একই মত, ‘আমি তো বলেছি, আমি কখনো নির্বাচন করবো না। আমি কীভাবে নির্বাচন করবো? নির্বাচন করতে যে রসদগুলো লাগে, সেটা আমার নেই।’ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে যে দায়িত্ব তিনি সামলাচ্ছেন, সেটিই তার সীমারেখা।
তবে বাস্তব পরিস্থিতির ওপরও তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। বুলবুলের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মতো বিসিবি সভাপতির দায়িত্বও পুরো ১২০ বলের লড়াই। তাই দুই-তিন ওভার খেলে থেমে যাওয়ার মতো নয়, কতটা সময় চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, সেটি নির্ধারণ করবে পরিস্থিতির ওপর। সহজভাবে বললে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, আর না চাইলে আগেই জানিয়েছিলেন, মানসম্মান নিয়েই সরে দাঁড়াবেন।
কিছুদিন ধরেই একটি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, বিসিবিতে গঠিত হতে পারে একটি অ্যাডহক কমিটি। তবে বুলবুল সব সময়ই সঠিক সময়ে নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন। সম্প্রতি ঢাকার ক্লাব সংগঠকরাও অ্যাডহক কমিটির বিরুদ্ধে সুর তুলেছেন, বরং তারা নির্দিষ্ট সময়েই নির্বাচন চেয়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের পরই অনুষ্ঠিত হতে পারে নতুন নির্বাচনী প্রক্রিয়া।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি বুলবুলের অবস্থান পরিষ্কার। ক্রিকেট চালিয়ে নেওয়াই পরিচালনা পর্ষদের প্রথম অগ্রাধিকার। তার মতে, ‘আমরা এখন যারা ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদে আছি, আমাদের মনোযোগ ক্রিকেটে। অবশ্যই নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে। সেটার জন্য যে আমাদের নির্বাচন কমিশন এবং আনুষাঙ্গিক কাজ, সেগুলো দ্রæত জানতে পারবেন। বুলবুল আসলে কতটা সময় এই চেয়ারে থাকবেন, সেটি নির্ভর করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট- অতীতের মতোই এবারও তিনি দায়িত্ব পালনে সতর্ক এবং ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রিকেটকে। এই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন ঢাকার ক্রিকেট সংগঠকরা। মোহামেডানের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান গতকাল দৈনিক ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘বুলবুল ভাইয়ের মতো মানুষ ক্রিকেটের জন্য খুব বেশি দরকার। সুযোগ থাকলে আমরা চাই তিনি বিসিবিতে থাকবেন। ঢাকার এই সংগঠক নির্বাচনের বিষয়ে বলেছেন, ‘বিসিবিতে দীর্ঘদিনের একটা অচলাবস্থা রয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’ এর আগে বিসিবির নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন ঢাকার ক্লাব সংগঠকরা। গেল রোববার ঢাকার ৭৬ ক্লাবের সংগঠন ‘ঢাকা ক্রিকেট ক্লাব অর্গানাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন’ সংবাদ সম্মেলনও করেছে। সেখানে সংগঠনটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, অ্যাডহক কমিটি করে ক্রিকেটকে কলুষিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক বোরহানুল হোসেনও একই সুরে কথা বলেছেন। তাদের চাওয়া বিসিবির বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই নির্বাচন হতে হবে।