বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
দেশ থেকে ঘুষ-দুর্ণীতিসহ সকল ধরনের অনিয়ম শেকড় থেকে স্ব-মূলে উৎপাটনের লক্ষে ২০২৪ সালে সংঘটিত হয় জুলাই আন্দোলন। যা এক সময় রূপ নেয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে। যে আন্দোলনের মূখে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় তৎকালিন ফ্যাসিষ্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পতন ঘটে পুরো ফ্যাসিষ্ট সরকারের টানা ১৭ বছরের আধিপত্যের। কিন্তু হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত ফ্যাসিষ্ট মুক্ত বাংলাদেশ কি আদৌ দূর্নীতিমুক্ত হয়েছে ? এ প্রশ্নের জবাবে আপনি কি বলবেন ? আপনি হ্যা অথবা না যা-ই বলুন না কেন আমরা বলবো এখনও এদেশের প্রশাসনসহ প্রতিটি দপ্তরে দপ্তরে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে হজারো দূর্নীতবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী। ঠিক তেমনি এক দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ ভুমি অফিসের তহসিলদার হাবিবুর রহমান। তার নিত্যদিনের ঘুষ-দুর্ণীতির কারনে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিণত হয়েছে ঘুষ ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে ।
একাধিক বিশ^স্ত সূত্রে জানা যায়,ওই অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মোঃ হাবিবুর রহমান আপন টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না। চুক্তির টাকা ছাড়া কোন ফাইলই নড়ে না। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কোন কাজ আদায় করা যায় না। এভাবে ভূমি সংক্রান্ত যে কোন সেবার বিনিময়ে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। যার বিনিময়ে তিনি নামে-বেনামে করেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমিপল্লী এলাকায় ৩ নং রোডে ১৩ নাম্বার বাড়িতে ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের রয়েছে তিনটি বিলাস বহুল ফ্লাট । যার বাজার মূল্য তিন থেকে চার কোটি টাকা। সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমিপল্লী এলাকায় ৩ নাম্বার রোডের ১৩ নাম্বার ভবনে ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের তিনটি ফ্লাট রয়েছে এমন সত্যতা পাওয়া গেছে। ভূমিপল্লীতে বেনামে রয়েছে তার আরো সম্পদ। শুধু তাই নয় তার দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ বাসি।
সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসে নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়, জমির পর্চা (খসড়া) তোলা সহ ভূমি সংক্রান্ত সকল কাজে সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিক ভাবে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে। নামজারি করাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। ভূমি অফিসে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবা প্রত্যাশী জানান, এই অফিসের কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান ভূমি অফিসে কাজে আসা গ্রাহকদের কাজ সম্পাদনের বিষয়ে টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেন।সেবা প্রাপ্তির ৮০ শতাংশ লোকই চরম হয়রানির শিকার হতে হয় আজ না-কাল সময়ক্ষেপন করে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত হারে দাবিকৃত উৎকোচ না দিলে সেবা গ্রহীতারা পান না তাদের কাঙ্খিত সেবা। ভূক্তভোগীরা আরও জানান, এই ভূমি অফিসের দুর্নীতি এমন চরমে পৌঁছেছে সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয় না। নামজারির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মোটা অংক টাকা আদায় করে এই অফিসের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বিভিন্ন স্তরে ভাগ দেয়ার কথা বলে। ভুক্তভোগীদের দাবী এই ভূমি কর্মকর্তার দুর্নীতি রোধে দুদকের হস্তক্ষেপ জরুরি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভূমি কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, আমার বাবা একজন ব্যাংকার ছিলেন,ওই সময় আমরা অনেক টাকা পয়সার মালিক ছিলাম, তাছাড়া আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন শিল্পপতি। তিনি বলেন,আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার সম্পদের ইনকাম ট্যাক্স ফাইল করা আছে। সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমিপল্লীতে প্রায় তিন কোটি টাকার ফ্ল্যাট এর মালিক কিভাবে হলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। #