‎দিনাজপুরে চিকিৎসকের ভুল অপারেশনে দুই যুবকের মৃত্যু’র অভিযোগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

শাহ্ আলম মন্ডল(বিরামপুর) দিনাজপুর:
দিনাজপুরের বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত দুটি অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও হাসপাতালে নাক, কান ও গলার ডাক্তার মোঃ শের আলী মর্তুজার ভুল অপারেশনে দুই যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরপর দুটি মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে দুই পরিবারে। পরিবার দুটিতে চলছে শোকের মাতম। আর উঠেছে চিকিৎসার নামে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ।
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতে বিরামপুর শহরের শালবাগানে অবস্থিত মা ও শিশু জেনারেল হসপিটালে ১৭ বছরের শফিকুল ইসলামের টনসিল অপারেশনের পর অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিবারের অভিযোগ অপারেশনের পরপরই শফিকুলের রক্তক্ষরণ শুরু হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দ্রæত রংপুরে নেওয়া হলে পাঁচ ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। মৃত শফিকুলের বড়ভাই আব্দুল আজিজ বলেন, ডাক্তারের ভুল অপারেশন আর অবহেলাতেই আমার ভাই মারা গেছে। আমি বিচার চাই, ডাক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এর আগে ২৯ অক্টোবর নবাবগঞ্জের ভাদুরিয়ায় রেনেসাঁ ক্লিনিক এন্ড হাসপাতালে ৩১ বছরের মমিনুল ইসলাম লাবুর টনসিল অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর লাবু অচেতন থাকায় তাকে দিনাজপুরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
লাবুর বাবা আফজাল হোসেন বলেন, দিনাজপুরে নেওয়ার পথে বিরামপুর রেলগেটে মোটরসাইকেল নেওয়ার অজুহাতে ডাক্তার শের আলী মর্তুজা নেমে পালিয়ে যায়। পরে দিনাজপুর হাসপাতালে পৌঁছালে ডাক্তাররা জানান, লাবুর মৃত্যু হয়েছে। তারা আরও বলেন, অপারেশনের সময় ছেলের শ্বাসনালী কেটে গেছে।
বিরামপুরের মা ও শিশু জেনারেল হসপিটালের ম্যানেজার হুমায়ুন জানান, ডাঃ শের আলী মর্তুজা তাদের অপারেশন থিয়েটার ভাড়া নিয়ে দুই রোগীর টনসিল অপারেশন করেন। পরে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে রংপুরে পাঠানো হয় এবং রাতে তার মৃত্যুর খবর আসে। অন্যদিকে ভাদুরিয়ার রেনেসাঁ ক্লিনিক এন্ড হাসপাতালের মালিক জোবায়ের আহমেদ কাবা দাবি করেন, ২৯ অক্টোবর আমাদের এখানে কোন অপারেশন হয়নি। ডাঃ মর্তুজা তার চেম্বারে একজন রোগী এনেছিলেন, রোগীটি সম্ভবত স্ট্রোক করেছে।
ডাঃ শের আলী মর্তুজার বক্তব্য জানতে তার বিরামপুর শহরের কলাবাগানস্থ মিন্টু ইলেকট্রনিক্স এর মার্কেটের দোতলায় ব‍্যক্তিগত চেম্বারে গেলে দেখা যায় চেম্বারের গেটে তালা ঝুলছে। প্রাইভেট চেম্বার হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই নিজের নামের সাথে হেলথ কেয়ার সেন্টার এবং ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার নাম দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছে। চেম্বারের বাইরে বিভিন্ন সাইনবোর্ডে ডাঃ শের আলী মর্তুজার নামের সাথে আলাদা বিশেষজ্ঞ পরিচয়ের সাইনবোর্ডও দেওয়া আছে। একটি সাইনবোর্ডে লেখা হৃদরোগ, মেডিসিন ও ডায়াবেটিস রোগ বিশেষজ্ঞ, আবার পাশাপাশি টাঙানো অপর একটি সাইনবোর্ডে লেখা নাক, কান, গলা ও মাথা ব‍্যাথা রোগে বিশেষজ্ঞ ও হেড নেক সার্জন। একাধিক সাইনবোর্ডে একাধিক বিশেষজ্ঞ পরিচয় দেওয়া ডাঃ শের আলী মর্তুজার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলে এক নারী ফোন রিসিভ করে জানান, স্যার নেই, ফোন রেখে স্যার ঢাকায় গেছেন, এরপর ফোনটি কেটে দেন।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, মা ও শিশু জেনারেল হসপিটালটি অনুমোদনবিহীন। এর আগে তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুজহাত তাসনীম আওন বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ