মোঃ আসাদুজ্জামান
দীর্ঘ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল ১১ জুন ২০২৬ আজ মধ্যরাত থেকে আবারও সাগরে মাছ শিকারে যাচ্ছেন বরগুনার উপকূলের জেলেরা। মা ইলিশ ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সাগরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। অবরোধের এই দীর্ঘ সময়ে জাল বোনা আর ট্রলার মেরামতের কাজ শেষ করে এখন সাগরে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। তবে সরকারি বরাদ্দের চাল অপ্রতুল হওয়া এবং নদীগুলোতে অবৈধ জালের অবাধ ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে তাদের মনে। মৎস্য বিভাগ আশা করছে, অভিযান সফল হওয়ায় এবার সাগরে মিলবে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ।
দীর্ঘ দিনের নীরবতা ভেঙে আবারও উৎসব মুখর হতে চলেছে উপকূলের জেলেপাড়াগুলো। বুকভরা আশা আর নতুন স্বপ্ন নিয়ে সমুদ্রে যাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা।
নিষেধাজ্ঞার এই দিনগুলোতে সাগরে যাওয়া বন্ধ থাকলেও হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন না জেলেরা। জাল মেরামত, ট্রলার রং করা আর ইঞ্জিন জোড়াতালির কাজ সেরেছেন এই সময়ে। তবে পেটের তাগিদ আর ঋণের বোঝা যাদের নিত্যসঙ্গী, তাদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান। সরকারিভাবে যে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।শুধু সাধারণ জেলেই নন, লোকসানের বৃত্তে বন্দি ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরাও। বৈরী আবহাওয়া আর পরপর নিষেধাজ্ঞার কারণে চলতি মৌসুমে এখনো আসল পুঁজিই তুলতে পারেননি তারা। তবে এবার কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
এদিকে সমুদ্রগামী ছেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে মাছ শিকারে না গেলেও নদীগুলোতে অবৈধ জাল দিয়ে সব ধরনের ছোট মাছ মেরে ফেলায় তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ।
মৎস্য বিভাগ বলছে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বরগুনায় এবারের অভিযান সফল হয়েছে। আর এর সুফল হিসেবে ইলিশের উৎপাদন গতবারের চেয়ে অনেক বাড়বে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঋণের বোঝা আর বরাদ্দের স্বল্পতা-সব কষ্ট ভুলে জেলেরা এখন প্রহর গুনছেন ১১ জুন। সব বাঁধা পেরিয়ে সাগরে এবার ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে এবং উপকূলের অর্থনীতিতে আবারও সুদিন ফিরবে, এমনটাই প্রত্যাশা এ অঞ্চলের লাখো মৎস্যজীবীর।