নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইসলাম ধর্ম অবমাননা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পিবিআই জানায়, মামলার কয়েকজন আসামী শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে আরও সময় প্রয়োজন হওয়ায় ২১শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় শুনানীতে পিবিআই আদালতের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করে। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ১০ জুন ২০২৬ তারিখকে নতুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেন। মামলা ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ২৫ নম্বর কোর্টে দায়ের করা হয়। বাদী ইউসুপ কাউসার অভিযোগ করেন যে, একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর, বিদ্রূপাত্মক ও কষ্টদায়ক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে লেখকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়। প্রথম শুনানীর পর মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়। মামলাটি ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১৮৬০ (সংশোধিত)-এর ২৯৫, ২৯৫(ক), ২৯৮ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয় এবং সি.আর.-২২০/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত করা হয়। মোট আটজনকে আসামী করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখিত “এথিস্ট নোট” ওয়েবসাইট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে ওয়েবসাইটের বন্ধ থাকা সরাসরি আইনানুগ নির্দেশে হয়েছে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। এটি হতে পারে তদন্তকালীন কার্যক্রমের অংশ বা ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে মামলার সম্ভাব্য শাস্তি ও আইনি প্রক্রিয়ার ভয় দেখানোর কারণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন ওয়েবসাইটে সাময়িকভাবে অ্যাক্সেস বন্ধ করা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। বাংলাদেশে ধর্মীয় বিষয়গুলো সামাজিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিতর্কিত প্রকাশনা প্রায়শই জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমাধান খোঁজা হয়। ডিজিটাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।