স্পোর্টস ডেস্কঃ
আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন। তবে নির্বাচনের আগে প্রশ্ন উঠেছে বিসিবির গঠনতন্ত্র এবং ভোট বাণিজ্য নিয়ে। সারা বছর ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও নির্বাচনের আগে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত হন অনেকে। এ প্রক্রিয়ায় অনেক অর্থও খরচ করেন তারা। যা নিয়ে আপত্তি সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার খালেদ মাসুদ পাইলটের। যদিও দুই মাস আগে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভ‚ঁইয়া বিসিবির গঠনতন্ত্রে নীতিমালা পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন। তবে সেটি সেখানেই রয়েছে, এখন পর্যন্ত তার বাস্তবে প্রতিফলন দেখা যায়নি। বিসিবির নির্বাচনের বাকি প্রায় দুই মাসের কম সময়। এই সময়ের ভেতরে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করাও বড় চ্যালেঞ্জ। তাতে প্রশ্ন উঠেছে, গঠনতন্ত্র ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন। সম্প্রতি আসন্ন নির্বাচনে বিসিবির গঠনতন্ত্র এবং ভোট বাণিজ্য নিয়ে এক গণমাধ্যমে কথা বলেছেন টাইগার সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট। সেখানে তিনি জানান, গঠনতন্ত্র হবে খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য। বড় বড় ক্রিকেট খেলুড়ে দেশেও গঠনতন্ত্র আছে। যেখানে ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের ক্রিকেট বোর্ডের উদাহরণ টানেন তিনি। তবে বাংলাদেশের গঠনতন্ত্র ভিন্ন, সেটাই সংস্কার চান সাবেক অধিনায়ক। কেননা গণতন্ত্রের জায়গা থেকে দেশের বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে কেউ বোর্ডে আসতে পারবেন। তবে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্ক নেই, তাদের কালো টাকা সাদা করতে বোর্ডের সঙ্গে নিজেদের নাম যুক্ত করেন। এমন লোকেদের কারণে ক্রিকেটের ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করেন পাইলট। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘যার কোনো ক্রিকেটীয় ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, কিংবা কোনো ক্লাব অথবা ক্রিকেটীয় সংস্থার সঙ্গেও সম্পৃক্ত নন। তারাও চলে আসেন বোর্ডে। কারণ তাদের কালো টাকা আছে, ২০০, ৫০০ অথবা ১০০০ কোটি টাকা রয়েছে। যা ব্যবহার করে বোর্ডে আসেন এবং টাকাগুলোকে কালো থেকে সাদা করার প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এমন গঠনতন্ত্র থাকলে চাইলেও ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে যুক্ত থাকা কেউই বোর্ডে আসতে পারবে না। এ সময় সাকিব, তামিম ও মাহমুদউল্লাহদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আপনি চাইলে তামিম, সাকিবকে আনতে পারবেন না। মাহমুদউল্লাহকে আনতে পারবেন। তারা জাতীয় দলের হয়ে ২০ বছর খেলেছে। তাতে প্রায় সব দেশে তাদের পরিচিতি আছে। তারা কেন টাকা খরচ করে বিসিবিতে আসবে, চুরি করতে আসবে? তারা কেন ২ কোটি টাকা খরচ করবে। বিসিবিতে ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, তবে টাকা দিয়ে বোর্ডে আসেন। তাদের নিয়ে ক্রিকেটের কতটুকু উন্নয়ন হয়, তা বোঝাতে গিয়ে নিজেকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে তিনি বলেন, ‘আমি খালেদ মাসুদ পাইট যদি মেডিক্যাল বোর্ডের ডিরেক্টর হই, তাহলে কেমন হবে, আমার তো জ্ঞানই নেই এই বিষয়ে।’