বাগেরহাট প্রতিনিধি:
মোংলা পৌর শহরের বি এল এস রোড মেইন বাজারে মঙ্গলবার দুপুরে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্য কর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিনের নিখোঁজ এবং একাধিক বিয়ের দায়ে অভিযুক্ত এক স্বামীকে প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর করতে করতে বাজার থেকে তুলে নিয়ে গেছে ক্ষুব্ধ স্ত্রী ও তার স্বজনরা। শত শত উৎসুক জনতার সামনে ঘটে যাওয়া এই দুর্ধর্ষ ঘটনায় পুরো বাজার এলাকায় চরম উত্তেজনা ও কৌত‚হল ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম দেলোয়ার (৩৫)। তিনি সুন্দরবন ইউনিয়নের বুরবুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সুকৌশলে বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এ পর্যন্ত একে একে অন্তত ৬টি বিয়ে করেছেন। দেলোয়ারের প্রতারণার কৌশল ছিল অনেকটা একই রকম বিয়ের পর কয়েকদিন শ্বশুর বাড়িতে থেকে বিশ্বস্ততা অর্জন করতেন এবং সুযোগ বুঝে অর্থ-স¤পদ হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যেতেন। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকায় তার স্ত্রীরা ও তাদের পরিবার তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে দেলোয়ার যখন মোংলা মুদি বাজারে নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখন তার ছোট স্ত্রী দেখে পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়। পরে পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন। দেলোয়ারকে দেখা মাত্রই তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। উত্তেজিত স্বজনরা তাকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে জনসমক্ষেই তাকে মারতে মারতে টেনে-হিঁচড়ে বাজার থেকে সরিয়ে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান তারা। এসময় ঘটনাটি এক নজর দেখার জন্য উৎসুক জনতার ভিড় জমায়। দিনের ব্যস্ততম সময়ে এমন সিনেমার মতো দৃশ্য দেখে বাজারে আসা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুহূর্তের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কী ঘটছে তা বুঝতে না পেরে শত শত মানুষ সেখানে
ভিড় জমান। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় বাজারের লোকজনের। ভিড়ের মধ্যে থাকা অনেকেই ঘটনার ভিডিও চিত্র মোবাইলে ধারণ করেন, যা মুহূর্তেই স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে একে পারিবারিক দ্ব›দ্ব এবং প্রতারণার প্রতিশোধ হিসেবে দেখা হলেও, ব্যস্ত বাজারে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে একজনকে জামার কলার ধরে টেনে-হেছড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, দেলোয়ার যদি অপরাধী হয়ে থাকেন তবে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল। দেলোয়ারকে আসলে ঠিক কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা কেমন, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিয়ের নামে এই প্রতারক ও তার পরবর্তী পরিণতি নিয়ে পুরো মোংলা শহরে এখন আলোচনার ঝড় বইছে।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ