হারুন-অর-রশিদ বাবু (রংপুর)
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় শনিবার রাতে আঘাত হানা ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে। ঝড়ের কবলে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার রাত ৮টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে তারাগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে তীব্র বাতাস, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিপাত বয়ে যায়। স্থানীয় স‚ত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি, আলমপুর ও কুর্শা ইউনিয়নে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। বাতাসের তীব্রতায় এসব এলাকার বেশ কিছু বসতঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং অনেক কাঁচা ঘর মাটির সাথে মিশে গেছে। কুর্শা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তুহিন জানান, শুধু তার ওয়ার্ডেই ২০টিরও বেশি কাঁচা ঘরবাড়ি চুরমার হয়ে গেছে। ঘর হারিয়ে অনেক পরিবারকে রাতভর খোলা আকাশের নিচে মানবেতর সময় কাটাতে দেখা গেছে।
ঝড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপ‚র্ণ সড়কে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সহায়তায় সড়ক থেকে গাছ অপসারণ শুরু হয়। তারাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ স‚ত্রে জানা গেছে, উপড়ে পড়া গাছের কারণে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দ্রæত মেরামত কাজ চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন বলেন, ঝড়ের পরপরই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রæত সময়ের মধ্যে দুর্গত পরিবারগুলোর সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তারাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম জানান, বিভিন্ন স্থানে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। আমাদের টেকনিশিয়ানরা মাঠে কাজ করছেন, আশা করছি দ্রæতই সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হবে।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ