রাজশাহী দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসে সুজন কান্তি দাসের নেতৃত্বে চলছে দুর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্যে

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

অনুসন্ধানী -১ম পর্ব

রাজশাহী থেকে ফিরে মোহাঃ আলী আশরাফ খোকন:
রাজশাহী দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসে চলছে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যের মহোৎসব। সরকারি খতিয়ান ও নক্সা বিলি থেকে শুরু করে রেকর্ড সংশোধন পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ধাপে চলছে টাকা লেনদেন। এ অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সেটেলমেন্ট অফিসার সুজন কান্তি দাস।
দেবীনগর মৌজায় জালিয়াতির চিত্র:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১৬৭ নং দেবীনগর মৌজা, রাজশাহী দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসের অধীনে ২০০৭ সালে বি.আর.এস জরিপ শুরু হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে ওই মৌজার চূড়ান্ত খতিয়ান প্রকাশ করা হয়। কিন্তু প্রকাশের পরপরই দেখা দেয় নানা অনিয়ম। অভিযোগ পাওয়া যায়, একজনের জমি অন্যজনের নামে রেকর্ড, কারও জমি বাদ দেওয়া, আবার বিবাদী বানিয়ে শুনানির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় সবই ঘটছে পরিকল্পিতভাবে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুর্নীতির মূল পরিকল্পনাকারী সুজন কান্তি দাস, যার নেতৃত্বে কাজ করছে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র।
দালালচক্রের রাজত্ব :
অফিসে প্রবেশ করলেই ঘিরে ধরে দালালরা। খতিয়ান বা নক্সা নিতে হলে ঘুষ দিতে হয় বাধ্য হয়ে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ১০০ টাকার খতিয়ান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়, আর ৫০০ টাকার নক্সা মিলছে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকায়।
অভিযোগ রয়েছে, দালাল হাবিবুর রহমান ও রহমত আলী, স্টোরকিপার আনোয়ার হোসেন, মাহমুদুল হাসান—সহ সকলেই নিয়মিত ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত।
একজন ভূমি মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমাদের রেকর্ডে ভুল করে অন্যের নামে দিয়েছে। টাকা না দিলে ফাইল ঘুরে বেড়ায় মাসের পর মাস।
তদন্তের নামে প্রহসন:
দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন সুজন কান্তি দাস নিজেই, যা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কিন্তু তিনি এখনও বহাল তবিয়তে বিলাস বহুল জীবন যাপন করেন সুজন কান্তি দাস বিমান যোগে রাজশাহী ঢাকা যাতায়াত করেন। রাজশাহী, কুমিল্লা ও বরিশাল তিন জেলায় একসাথে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই সময় তিনি কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন করেছেন এবং বহিরাগত দালালদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন।
উপসচিবের নীরবতা:
ঢাকা দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসের উপসচিব খান মো. নাজমুস শোয়েবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক। তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ।
জনগণের দাবি:
দেবীনগরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসে জরুরী তদন্ত পরিচালনা করে সুজন কান্তি দাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
সংক্ষেপে মূল অভিযোগসমূহ :
* খতিয়ান ও নক্সা বিক্রিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়
* রেকর্ড জালিয়াতি ও শুনানিতে ঘুষ বাণিজ্য
* দালালচক্রের মাধ্যমে জনসেবা বাণিজ্য
* সুজন কান্তি দাসের নিয়মবহির্ভূত দায়িত্ব পালন
* বদলির পরও কর্মকর্তাদের বহাল থাকা
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের একটাই প্রশ্ন দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কে নেবে? প্রশাসন কি এবার সত্যিই জেগে উঠবে, নাকি দুর্নীতির এই পার পেয়ে আবারো নতুন করে দুর্নীতি শুরু করবে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ