মো.ইউসুফ আলী-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) বলা হয় দেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট। আন্দোলন-সংগ্রামের তীর্থভূমি বলে পরিচিত ডাকসু। বায়ান্ন, বাষট্টি, ছিষট্টি, উনসত্তর, সত্তর, একাত্তর, নব্বই ও চব্বিশের ছাত্র আন্দোলনের সূতিকাগার এটি। তাই আগামী কালের নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশবাসীর চোখ এখন সেদিকে নিবদ্ধ। সুতরাং এখন আর দিন নয় । এখন কেবল ক্ষণ গণনার পালা। কারন রাত পোহালে শুরু হতে যাচ্ছে দেশবাসীর বহুল কাঙ্খিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫। এর মধ্য দিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে ৩৮তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ বা ডাকসু। এ নির্বাচনকে ঘিরে সব আয়োজনই এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এখন শুধু ক্ষন গণনার পালা মাত্র। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। গত ২৬ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার পর্যন্ত টানা ১৩ দিন প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন প্রার্থীরা। এখনও শেষ মুহূতের্র কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত প্রার্থীরা। ছয় বছর বিরতির পর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ডাকসু নির্বাচন। এমনিতেই ডাকসুকে বলা হয় মিনি পার্লামেন্ট, তাছাড়া ৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ডাকসু নির্বাচন রাজনৈতিক দল ও পক্ষের জন্য এসিড টেস্ট হিসেবে মনে করা হচ্ছে। কারন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য ডাকসু নির্বাচন একটি বার্তা হতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। তাই এ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা। এদিকে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ভোটের হিসাবও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। যে কারনে নির্বাচনে কার কী অবস্থান হবে এ নিয়ে আগে থেকে বড় কোনো পূর্বাভাসও মিলছে না। কাজেই এখন পর্যন্ত সব প্রার্থীই সমানভাবে মাঠে সক্রিয়। আর যাই হোকনা কেন নিজেদের অধিকার রক্ষায় মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট দিতে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষার্থীরা এ কথাটা এখন নিশ্চিন্তেই ধরে নেয়া যায়।
ঢাকা বিশ^ বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা- ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে ছাত্রী-১৮ হাজার ৯৫৯ জন,আর ছাত্র- ২০ হাজার ৯১৫ জন। এ নির্বাচনে মোট প্রার্থী পদের সংখ্যা ২৮টি। যার মধ্যে বিভিন্ন পদে মোট প্রার্থী ৪৭১ জন, যার মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ৪০৯ জন আর নারী প্রার্থী ৬২ জন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি)৪৫ জন,সাধারণ সম্পাদক (জিএস)১৯ জন,সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)২৫ জন,মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ১৭ জন,কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক ১১ জন,আন্তর্জাতিক সম্পাদক ১৪ জন,সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ১৯ জন,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ১২ জন,গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক ৯ জন, ক্রীড়া সম্পাদক ১৩ জন,ছাত্র পরিবহন সম্পাদক ১২ জন,সমাজসেবা সম্পাদক ১৭ জন,স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক ১৫ জন,মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক ১১ জন,ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক ১৫ জন,১৩ সদস্য পদের বিপরীতে প্রার্থী: ২১৭ জন। এছাড়া হল সংসদের সংখ্যা- ১৮টি। মোট পদ- ২৩৪টি। প্রতি হলে পদ সংখ্যা- ১৩টি। ১৮ হলে মোট প্রার্থী- ১ হাজার ৩৫ জন,১৩ ছাত্র হলের প্রার্থী সংখ্যা- ৮৫০জন। ৫ ছাত্রী হলের প্রার্থী সংখ্যা- ১৮৫জন। এর মধ্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল¬াহ হল-৫৯ জন,সলিমুল¬াহ মুসলিম হল- ৬২ জন,জগন্নাথ হল- ৫৫ জন,ফজলুল হক মুসলিম হল- ৫৮ জন,শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল- ৭৫ জন,সূর্যসেন হল- ৭৫ জন,হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল- ৬০ জন,কবি জসীম উদ্দীন হল- ৬৮ জন,মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল- ৭৩ জন,শেখ মুজিবুর রহমান হল- ৫৯ জন,অমর একুশে হল- ৭৬ জন,বিজয় একাত্তর হল- ৬৮ জন,স্যার এ এফ রহমান হল- ৬২ জন,রোকেয়া হল- ৪৫ জন,শামসুন নাহার হল- ৩৫ জন,বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল- ৩১ জন,শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল- ৩৬ জন,কবি সুফিয়া কামাল হল- ৩৮ জন। এসকল পদে একজন ভোটার ভোট দেবেন ৪১টি করে। কেন্দ্রীয় সংসদে ২৮টি, হল সংসদে ১৩টি পদে। যা-ই হোক দেশের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠের আগামী কালের নির্বাচনকে ঘিরে সকল শিক্ষার্থীরাই যথেষ্ঠ সতর্ক। তারা কষছেন হিসাব। তাই শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের। #