শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধর, আটক-২

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

মোঃসুমন তালুকদার :
চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যুর পর শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাসপাতালের এক অফিস সহায়ক ও পাঁচ আনসার সদস্যও আহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আহত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম বর্তমানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।
হাসপাতাল স‚ত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ তুলে স্বজনেরা চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলা চালান। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে প্রবেশ করে চিকিৎসক নাসির ইসলামের মাথায় পাথর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করে। এ সময় হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ ও পাঁচ আনসার সদস্য চিকিৎসককে উদ্ধার করতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। আহতরা হলেন মেডিকেল অফিসার ডা. নাসির ইসলাম (২৯), অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ (৫৮), আনসার গার্ড কমান্ডার এপিসি আব্বাস আলী (৪৬), আনসার সদস্য সোহেল সরদার (২৫), কামরুল (৩০), আজিজুল হক (২৬) ও কাউসার (২৮)।
আহত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম বলেন, লাল মিয়া হার্ট অ্যাটাকের রোগী ছিলেন। রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু স্বজনেরা রাতে নিতে রাজি হননি। পরে রোগীর মৃত্যুর খবর শুনি। এরপর কয়েকজন আমার কক্ষে ঢুকে হামলা চালায়। একজন পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে, অন্যরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ বলেন, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন লোক ডাক্তার স্যারকে মারধর করছিল। তাকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। আমার জামা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
এ ঘটনায় সোলাইমান কাজী ওরফে আল-আমিন ও জসীম উদ্দিন নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক সোলাইমান কাজী বলেন, আমার মামা চিকিৎসকের অবহেলায় মারা গেছেন। তবে কে বা কারা হামলা চালিয়েছে, তা আমি জানি না। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। আল-আমিন ও জসীম নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন জানান, চিকিৎসক নাসির ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। #

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ