নিজস্ব প্রতিবেদক :
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের আগেই ছেলের জন্ম দেখিয়ে পিতৃপরিচয় পরিবর্তনসহ বিভিন্নভাবে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে রেজাউল হক লিটন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে তিনি নিজেকে মৃত আলী আহমদ চৌধুরীর ঔরসজাত সন্তান দাবি করে সম্পত্তি দখল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ৫ নং বিনোদপুর ইউনিয়নের জালিয়াল গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল হক লিটন (এনআইডি নং- ৬৪১৩০৮৬২৯৬), পিতা মৃত সিরাজুল হক এবং মাতা মাহিনুর বেগম। তবে তিনি তার পিতার নাম পরিবর্তন করে আলী আহমদ চৌধুরী হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তথ্য অনুযায়ী, লিটনের মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে ১৯৭৫ সালের ১০ আগস্ট সম্পন্ন হয়, যা সংশ্লিষ্ট কাবিননামায় উলেখ রয়েছে। অথচ ওই সময় রেজাউল হক লিটনের বয়স ছিল প্রায় ৩ বছর ৩ মাস। ফলে জন্মের সময়কার পিতার নাম পরিবর্তন করে পরবর্তীতে নিজেকে আলী আহমদ চৌধুরীর সন্তান হিসেবে দাবি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় আলী আহমদ চৌধুরীর ছেলে মোস্তাক আহমদ চৌধুরী জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে নিকাহনামা যাচাইয়ের আবেদন করেন। পরে সংশ্লিষ্ট কাজী কর্তৃক ডুপ্লিকেট কাবিননামা সরবরাহ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: সিআর ৯৫০/২৪, সিআর ৫৩৩/২৫, বর্তমান জিআর ১৫৬/২৫)। অভিযোগে আরও বলা হয়, রেজাউল হক লিটন জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করেছেন। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করে ওয়ারিশ সনদ গ্রহণের চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, ২০১০ সালে তার মায়ের করা হেবা দলিলে তার পিতার নাম সিরাজুল হক উলেখ থাকলেও পরবর্তীতে জমাখারিজ খতিয়ানে ঘষামাজা করে পিতার নাম পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। এই ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড থেকে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে, নোয়াখালী পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, তিনি ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা করেন। পরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সেটিকে জাল হিসেবে শনাক্ত করে।
এ বিষয়ে মোঃ ফারুক এন্ড এসোসিয়েটস গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে রেজাউল হক লিটনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়। একই সাথে মামলার বাদী মোস্তাক আহমদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, তাকে নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সময় জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে চলমান মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত সংশ্লিষ্ট ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত রেজাউল হক লিটনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কিছু না বলে দোকানে এসে কথা বলার অনুরোধ করেন। পরে তার এক স্বজন ফোনে জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুলক্রমে তথ্য ভুল হয়েছে এবং তা আইনগতভাবে সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ