মাউশিতে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট অহিদুর রহমানের দাপট, নিয়োগ বানিজ্য বদলীসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ                

মাউশিতে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট অহিদুর রহমানের দাপট, নিয়োগ বানিজ্য বদলীসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ                
মাউশিতে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট অহিদুর রহমানের দাপট, নিয়োগ বানিজ্য বদলীসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ                
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

স্টাফ রিপোর্টার :

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সাটলিপিকার মো: অহিদুর রহমান এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি তালিকায় বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি ছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত বেতন ভাতা উত্তোলন করার পরেও গত ৮ বছরে তার বিভাগীয় মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোঃ ওহিদুর রহমান মাউশির বিভিন্ন এম.পি.ও বাণিজ্য, কর্মচারী বদলির সিন্ডিকেট নেতা হিসেবে সারা বাংলাদেশে পরিচিত। তাকে বিভিন্ন অন্যায় অনিমের কারণে ২০১২ সালে মাউশি থেকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়।কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ে বিভিন্ন নিয়মের কারণে তৎকালীন ডিজি অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন ১২-৯-২০১৩ তারিখে ঢাকা ডিডি অফিসে বদলি করেন। কিন্তু অহিদুর রহমান ঢাকা ডিডি অফিসে যোগদান না করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। পরবর্তীতে ৩০/৪/২০১৪ তারিখে ভর্তির আদেশ বাতিল করা হলে আবারও তিনি অনুপস্থিত থাকেন। একাধারে দেড় বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার তৎকালীন ডিজি অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন মাওশির স্মারক নং ৮ টি -১জিএ/২০০২/৪,০৬৩/৩ তারিখ : ১১ -০২ -২০১৫ তারিখ বিভাগীয় মামলা দায়ের করেন। বিভাগীয় মামলাটি চলমান ছিল কিন্তু ডিজির অবসর গ্রহণ এবং তৎকালীন সহকারী পরিচালক এ টি এম আল ফাত্তাহ এর বদলির কারণে সাধারণ প্রশাসন শাখার কিছু কর্মচারীর সহযোগিতায় বিভাগীয় মামলার নথিটি গায়েব করা হয়। ৯টি অঞ্চলের এমপিও নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)এর মাধ্যমে তদন্ত করা হয়। উক্ত তদন্তে কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের এম.পি.ও সিন্ডিকেট হিসেবে সাট লিপিকার মোঃ অহিদুর রহমানের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৯ সালে মাউশিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।মাউশির মাধ্যমিক শাখা থেকে এ বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করলেও উক্ত নথিটি চাপা দেওয়া হয়। তবে কিছুটা আইওয়াশ করার জন্য ময়মনসিংহ ডিডি অফিসে বদলি করা হয়। কিন্তু ময়মনসিংহে বদলি করার পরও তিনি কোনদিন ময়মনসিংহ অফিস করেন নাই। তিনি ঢাকায় বসে সারা বছর বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন। তিনি সপ্তাহে পাঁচ দিনই মাউশির প্রধান কার্যালয় শিক্ষা ভবনে ঘোরাঘুরি করে বিভিন্ন দালালি এবং বদলি বাণিজ্য করে থাকেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে আবার কুমিল্লা আঞ্চলিক শিক্ষা কার্যক্রমের বদলি হয়ে যান। শিক্ষা ভবনের সিসি ক্যামেরা যাচাই করলেই দেখা যাবে গত এক বছরের মধ্যে প্রতিদিন সকাল দশটার মধ্যে মাউশিতে চলে আসেন আর সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করেন। উক্ত কর্মচারী শিক্ষা ভবনসহ অনেক কর্মচারী থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ধার নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। সুযোগ পেলেই অনেকের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করে থাকেন। কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সাট লিপিকার মোঃ অহিদুর রহমান এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা থাকলেও মাউশির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রশাসনিক কর্মকর্তার তালিকার মন্তব্যে কলামে বিভাগীয় মামলার কথা উল্লেখ নাই। তার আরেকটি চমক কুমিল্লায় পোস্টিং হলেও ক্ষমতার জোরে মাউশির ঠিকানায় এনওসি করেন। বিভাগীয় মামলার নিষ্পত্তি ছাড়াই কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সকল বেতন ভাতা উত্তোলন করে নিয়েছে। বিগত সরকারের আওয়ামী সুবিধাভোগীএই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত এবং মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছে যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ রয়েছে।

অহিদুর রহমানের সহযোগী হিসেবে যারা রয়েছে-জামাল উদ্দিন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, বেসরকারি অডিট শাখা;মো: শাহজাহান, কম্পিউটার অপারেটর, আইন শাখা; সোহরাব হোসেন, অফিস সহকারী, সাধারণ প্রশাশন শাখা; মোবারক উল্লাহ মিঠু, উচ্চমান সহকারী, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন; শিবলী মোল্লা, কম্পিউটার অপারেটর, হিসাব শাখা, মেহেদি হাসান, উচ্চমান সহকারী, প্রশিক্ষণ শাখা।

মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ডক্টর এস এম ওয়াহিদুজ্জামান জানান, চাকরির ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থেকে অহিদুর রহমান দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক উত্তম কুমার মন্ডল তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মাউশির অফিস সহকারী মোঃ ইমরান হোসেন লিখিত অভিযোগে জানান, অহিদুর রহমান ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে চলেছে। তিনি বর্তমানে আতঙ্কগ্রস্থ রয়েছেন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ