শিক্ষকতার নামে কোচিং ব্যবসায়ী আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক জাহিদুর রহমান

Daily Amader Kantha is an National News Agency of Bangladesh.
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

একটি দেশের জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মানে শিক্ষকের ভূমিকা থাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা। কিন্তু সেই শিক্ষক যদি নিজেই আদর্শ ও নীতি নৈতিকতার পরোয়া না করে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে এই মহৎ পেশার সুবিধা নিয়ে শিক্ষাকে ব্যবসা-বানিজ্যের পর্যায়ে নিয়ে যায়, তাহলে শিক্ষকতা পেশার মহৎ উদ্দেশ্য সেখানেই ব্যর্থ হয়। এবং এমন শিক্ষা ব্যবসায়ী শিক্ষকরা সমাজের সেবকের পরিবর্তে ভক্ষকে পরিণত হয়।

সম্প্রতি রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের বনশ্রী শাখার ৭ম শ্রেণীর শিক্ষক জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর নাম করে অভিভাবকদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী অভিভাবকদের সুত্রে জানা যায়, জাহিদুর রহমান ৭ম শ্রেণীর শ্রেণী শিক্ষক হওয়ার সুবিধা নিয়ে উক্ত শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে তার নিজস্ব কোচিংয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বেশি সুবিধা দিয়ে থাকেন। এছাড়া কোচিংয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি কোচিংয়ের মাসিক বেতন বাদেও অতিরিক্ত সিট বাবধ অভিভাবকদের ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে টাকা নেওয়ার জন্য তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করেন। আর যদি তার এমন কোচিং বানিজ্যের চাহিদা পূরনে কোন অভিভাবক অপরাগ পোষন করেন তাহলে তার সন্তানের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদানে অবহেলা করেন এবং মার্ক আটকে রাখেন তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনুমতি না থাকার পরেও অভিভাবকদের জিম্মি করে এমন কোচিং বানিজ্যকে সরেজমিনে আমাদের কন্ঠের প্রতিবেদকের তদন্তে দেখা যায় দেদারসে চলছে জাহিদুর রহমানের কোচিং বানিজ্য। কোচিং চলাকালীন সময় আমাদের কন্ঠের প্রতিবেদকের কাছে তিনি জানায়, তিনি নাকি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়েই কোচিং পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘ দিন ধরে। প্রথমে তিনি ১০ জন শিক্ষার্থীকে কোচিং করানোর কথা জানালেও পরে তিনি স্বীকার করেন ১০ জন করে আরো একাধিক ব্যাচ পড়ান তিনি।

জাহিদুর রহমানের কোচিং বানিজ্যের প্রসঙ্গে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শাখা প্রধান মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকদের কোচিং করানোর কোনো অনুমতি নেই, যদি কেউ কোচিং করায় তবে তা হবে বেআইনী। প্রধান শাখায় অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিষয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ লায়লা আক্তার আমাদের কন্ঠ প্রতিবেদকের কাছে বলেন, আমি মাত্র সদ্য দায়িত্ব পেয়েছি, অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবো। তবে শিক্ষকদের আলাদা কোচিং করানোর কোনো সুযোগ নেই। এবং এমন কর্মকান্ড শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আইন বহির্ভূত এবং শিক্ষকের নৈতিকতা বিহীন কর্মকান্ড।

এছাড়াও শিক্ষকের নামে ভক্ষক জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছেন তিনি দীর্ঘ দিন যাবত এমন কোচিং বানিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং বনশ্রীতে একটি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। এছাড়াও গত ছাত্র অভ্যুত্থান চলাকালীন সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশগ্রহন না করার জন্য বাধা ও হুমকি প্রদান করার অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে সরেজমিনে আমাদের কন্ঠের প্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি নিজের নামে ফ্ল্যাটের কথা অস্বীকার করে স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাটের মালিকানার কথা জানান। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বাধা প্রদানের কথাও অস্বীকার করেন।

ইতিমধ্যে আমাদের কন্ঠের প্রতিবেদকের তদন্তে অভিভাবকদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাহিদুর রহমানকে ৭ম শ্রেণীর শ্রেণী শিক্ষক হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু এখনো বেশীরভাগ অভিভাবকদের দাবি এই শিক্ষক নামে ভোক্ষককে যেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকতার দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ