আল্লামা সাঈদী ছিলেন একজন বহুমাত্রিক জীবনের অধিকারী

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

মেহেদী হাসান হাওলাদারঃ

মাওলানা দলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বপরিমন্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক ,রাজনৈতিক অর্থনৈতিক, আন্তর্জাতিক মহাগ্রন্থ আল কোরআনের যথার্থ ব্যাখ্যা সর্বস্তরের মানুষের জ্ঞানের খোরাক সহ বাস্তব জীবনে কর্ম ও আমলের প্রেরণার উৎস হয়ে রয়। আধুনিক মুসলিম বিশ্বের সহ বাংলাদেশে সাফল্য একটি সমাজব্যবস্থা ও ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেব্যাপারে জ্ঞান অর্জনের সহায়ক করে।
দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী এই নামটি বাংলাদেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু তার জীবন কেবল বিতর্কের নয়; বরং বিশাল জ্ঞানের আলো, ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার এবং মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তোলার এক উজ্জ্বল নিদর্শনও। তিনি ছিলেন একজন শ্রদ্ধাভাজন আলেম, যিনি শুধু বাংলাদেশ নয় পাকিস্তান, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এমনকি আফ্রিকাসহ বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে সম্মানিত ছিলেন। তাকে নিয়ে যে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা সত্তে¡ও তার প্রতি ঘৃণার কোনো অবকাশ নেই এ কথা বিশ্বাস করেন সহ্র কটি মানুষ। শিক্ষা ও জ্ঞানের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার সাঈদখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি তার স্থানীয় মক্তবের শিক্ষা সম্পন্ন করেন, এরপর দক্ষিণাঞ্চলের মাদ্রাসা শিক্ষায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।
তিনি উচ্চতর ইসলামি জ্ঞান অর্জনের জন্য ভারতে এবং পরবর্তীতে সৌদি আরবের মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা লাভ করেন বলে জানা যায়। তার জ্ঞানের গভীরতা, আরবি ও উর্দু ভাষায় ব্যাখ্যানিপুণতা, এবং কোরআনের তাফসিরে অনন্য ব্যাখ্যা তাকে “আল্লামা” উপাধিতে ভূষিত করে। এই উপাধি শুধু তার অনুসারীরা নয়, দেশের বাইরে থেকেও স্বীকৃত হয়। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মাননা আল্লামা সাঈদীর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি পাকিস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ইসলামি সেমিনার, দাওয়াতি সম্মেলন ও ইসলামি আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছেন। তুরস্কের ধর্ম মন্ত্রণালয় তাকে “বিশ্ব ইসলামী চিন্তাবিদদের অন্যতম” বলে উল্লেখ করেছিল। মালয়েশিয়ার দাওয়াহ একাডেমি থেকে তিনি পেয়েছেন ইসলামি দাওয়াহ সম্মাননা। সৌদি আরবের কিছু প্রভাবশালী স্কলার ও মসজিদের ইমাম তাকে “আল্লামা ও মুহাদ্দিস” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রপ্রধান ও দাওয়াহ ব্যক্তিত্ব তার মৃত্যুর পর গভীর শোক প্রকাশ করেন। তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়্যিপ এরদোয়ান, মালয়েশিয়ার ইসলামি চিন্তাবিদ আনোয়ার ইব্রাহিম, কাতারের দাওয়াহ মন্ত্রণালয় সবাই তার কর্মজীবনের ভূয়সী প্রশংসা করে। দাওয়াত ও তাফসির: জ্ঞান প্রচারের মহাসড়ক তার কণ্ঠে কোরআনের তাফসির ছিল সহজ, আবেগময়, ও বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। “তাফসিরে সাঈদী” শিরোনামে তার ধারাবাহিক বয়ান অডিও/ভিডিও আকারে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে ইউরোপ-আমেরিকাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
তার ওয়াজ মাহফিল ছিল একমাত্রিক ধর্মীয় বক্তৃতা নয়, বরং তা ছিল একধরনের চিন্তাশীল আলোচনার প্ল্যাটফর্ম। তিনি ইসলামের সামাজিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক দিকগুলোকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতেন, যা আধুনিক মুসলিম সমাজে প্রয়োজনীয়। রাজনীতি ও বিচার,দ্ব›দ্ব ও দৃষ্টিভঙ্গির সংঘর্ষ তার রাজনৈতিক উত্থান ঘটে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০১০ সালে তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ গঠিত হয়। ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদন্ড দেয়; পরে আপিলে তা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে রূপান্তর পায়। তবে এই বিচারের প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য প্রমাণ নিয়ে ছিল যথেষ্ট প্রশ্ন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগে সরাসরি ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা তাকে চেনেন না বা অভিযুক্ত করতে চান না। বিচার পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, প্রক্রিয়াগতভাবে কিছু জায়গায় দুর্বলতা ছিল।সাঈদীর আইনজীবীরা বলেন,রাষ্ট্র তাকে নয়, তার আদর্শকেই দন্ডিত করেছে।” মৃত্যুর পরও মানুষ ও ইতিহাসের মাঝে উপস্থিত ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট, কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থ হয়ে পিজি হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি ইন্তেকাল করেন। তার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি স্পষ্ট করে যে,তিনি কেবল একজন রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন কোটি মানুষের হৃদয়ের আলো। তার কবরকে ঘিরে আজো হাজারো মানুষ জিয়ারত করেন। কেউ তাকে দোষী মনে করুক বা নির্দোষ, তার আলেমসুলভ জীবনের জন্য মানুষ আজো তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী একজন ব্যক্তি যার জীবন ছিল বিচিত্র, বহুমাত্রিক, এবং সমাজে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে। ধর্মপ্রাণ মানুষদের কাছে তিনি “আল্লামা”, “মুফাসসিরে কোরআন”, আর রাষ্ট্রপক্ষের কাছে তিনি একজন বিচারাধীন রাজনৈতিক চরিত্র। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসকে সৎভাবে দেখি, তবে বুঝবো তার প্রতি ঘৃণা নয়, বরং বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। একজন মানুষ কীভাবে ধর্মীয় জ্ঞান, বক্তৃতা এবং চিন্তর মাধ্যমে এত বিশাল প্রভাব ফেলতে পারেন তা বোঝার চেষ্টা করলেই তাকে বোঝা সম্ভব। তিনি শুধু একটি নাম নন, একটি অধ্যায় যা কখনো মুছে ফেলা যাবে না।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ