নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের দৌরাত্ম্য!

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

মোঃ দেলোয়ার হোসেন (নাজিরপুর):

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একসময় ছিল এলাকার সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল। কিন্তু এখন সেখানে রোগীদের স্বস্তি নয়, বরং ভোগান্তিই বেশি। হাসপাতালে ঢুকলেই চোখে পড়ে দালালদের আনাগোনা। তারা রোগীদের নানা কৌশলে বোঝায় হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি নষ্ট, রিপোর্ট সঠিক পাওয়া যায় না, কিংবা চিকিৎসা ঠিকমতো হয় না। এর মাধ্যমে তারা রোগীদের প্রলুব্ধ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। বিপাকে দরিদ্র রোগীরা গ্রামের প্রতন্ত অঞ্চল থেকে চিকিৎসার আশায় আসা দরিদ্র মানুষগুলো দালালদের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে অতিরিক্ত খরচ করতে বাধ্য হন। নুন আনতে যাদের পানতা ফুরায়, সেইসব পরিবারের পক্ষে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মোটা অঙ্কের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় ঋণ করে, কিংবা গরু-ছাগল বিক্রি করে পরীক্ষার খরচ জোগাতে হয়।

কিন্তু চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার আগেই অনেকে অর্থাভাবে হাল ছেড়ে দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন বলেন,“আমরা গরিব মানুষ, হাসপাতালে এসেছিলাম সস্তায় চিকিৎসা নিতে। কিন্তু দালালরা জোর করে বাইরে নিয়ে গেল। দুই হাজার টাকার পরীক্ষা লিখে দিয়েছে, এত টাকা কোথায় পাবো? বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অরাজকতা শুধু দালাল নয়, হাসপাতালের ভেতরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরাও সমানভাবে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগীরা অভিযোগ করেন, এতে তারা বিব্রত ও ক্ষুব্ধ হন। সেবার মানে স্থানীয়রা জানান, দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। যারা এক সময় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেন, তারা এখন বাধ্য হয়ে প্রাইভেট চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছেন।

অথচ সরকারি যন্ত্রপাতি সচল থাকলেও রোগীরা সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মোঃ রেজাউল করিম লিটন বলেন, দালাল মুক্ত এবং ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এনে কঠোর পদক্ষেপ এবং সাধারন মানুষ যাতে সু-চিকিৎসা পায় তাহার জোর দাবী জানায় প্রশাসনের কাছে।

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মশিউর রহমান বলেন, কোনো কিছুই প্রশাসন দিয়ে কন্ট্রোল সম্ভব না। এটা একটি সামাজিক আন্দোলন সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। হাসপাতালে সকল ধরনের টেস্ট হয়। আমাদের হাসপাতালে ম্যান পাওয়ারের কারণে কিছু রোগী বাহিরে যায়। দালালদের বিরুদ্ধে বরিশাল বিভাগে ও পিরোজপুর জেলায় বিভিন্ন সময় মোবাইল কোট চালানো হয়েছে আমরা ও প্রশাসন তৎপর আছি।

সমাজের সবাই এগিয়ে আসলে নাজিরপুরবাসী আগের চেয়ে অনেক বেশি ভালো স্বাস্থ্য সেবা পাবে। নাজিরপুর উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আশ্বস্ত করেন অচিরেই দালাল চক্রো ও অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অভিযান চালানো হবে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ