সিনথিয়া আক্তার:
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড দখলে নেওয়ার ঘটনায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছে। আহতরা হচ্ছেন জুয়েল রেদোয়ান, সাব্বির, মাসুম। এ ঘটনায় কৃষকদল নেতা আব্দুল আলীমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জিডি করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে পার্কিং উম্মক্ত থাকলেও নতুন করে আদাবর ৩০ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহিদ হোসেন জন স্ট্যান্ডটি দখল করতে আসে তার দলবল নিয়ে। এসময় ওপেন পিস্তল বের করে জনের লোকজন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এ ঘটনাটি সবার নজরে আসে এবং দুটি জিডির কপি এ প্রতিবেদকের হাতে আসে। এ ঘটনায় শেরে বাংলা নগর থানায় পৃথকভাবে দুটি জিডি করা হয়েছে। মো. মাসুম নামে একজন প্রথমে জিডি করেন। যেখানে সালামত উল্লাহ খান সজীব, ওমর ফারুক, রাসেদ ও মো. আব্দুল আলীমকে অভিযুক্ত করা হয়। এরপর মো. আব্দুল আলীম নামে অন্যজনও একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেখানেও ৩ জনকে অভিযুক্ত করে জিডি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এরা সবাই বিএনপির অঙ্গসংগঠনের সদস্য।
প্রথম জিডিকারী মাসুম জানায়, তার সহকারী তিনজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। তিন থেকে চারজনকে মারধর করে আহত করা হয়েছে। আহতরা সবাই শহিদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় রয়েছে। এ ঘটনায় শেরে বাংলা নগর থানার শ্রমিক দলের ভুক্তভোগী হাসান জানান, এ এলাকায় আওয়ামী লীগের সরকার পতন আন্দোলনে আমাদের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। কিন্তু আমরা হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স রাখলেই সেখানে চাঁদা নিতে আসে একটি গ্রæপ। আমরা চাঁদা দেব না জানালে ৩০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহিদ হোসেন (জন) ঘটনার দিন আমাদের মারধর করতে থাকে এর প্রতিবাদ করতে গেলে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। তার সঙ্গে থাকা একজন ওপেন পিস্তল বের করে।
তিনি আরো জানান, এ এলাকাটি এতদিন আওয়ামী লীগের নেতারা নিয়ন্ত্রণ করত। এখন তাদেরই দোসররা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। আদাবর থানা ৩০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহিদ হোসেন (জন) এর নেতৃত্বে হামলা করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগী।
হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আনিতা নামে একটি কোম্পানি হাসপাতালের ক্যান্টিন এবং পার্কিং ইজারা নিয়ে ১৬ বছর চালিয়ে এসেছে বলে জানান স্থানীয়রা। এই কোম্পানিটর মালিনায় রয়েছে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আনিতার ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা তারিক হাসান কাজল ও জ্যোতি এবং লিটন নামে কয়কজন অংশীদার রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন। লিটনের ছেলে জাহিদ হোসেন (জন) জানিয়েছেন এখানকার পার্কিং এবং কেন্টিন তাদের ইজারা নেওয়া। জন আদাবর থানার ৩০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। ঘটনার দিন সন্ধ্যা এবং রাতে অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে দুই দফা মারামারি হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী হাসান জানান, আদাবর থানার ৩০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহিদ হোসেন (জন) রাতে হাসপাতালে তার লোকজন নিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় একজনকে মারতে মারতে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের গেটের বাইরে বের করে এ সময় তার সঙ্গে থাকা সাদা শার্ট পরা ব্যক্তি ওপেন পিস্তল বের করে। যার একাধিক ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ রয়েছে। ভিডিওটি এ প্রতিনিধির হাতেও এসেছে। এসনয় শেরেবাংলা নগর থানার কৃষক দলের সভাপতি মো. আব্দুল আলীম ও নেতৃত্ব দেয় জনের সঙ্গে।
হাসান আরো অভিযোগ করেন, শেরেবাংলা নগর থানা কৃষক দলের নেতাও আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত চাঁদা দাবি করে আসছেন, আমাদের কথা হচ্ছে গত বছের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা আর কাউকে চাঁদা দেব না। গত বছরের ৫আগস্টের পর স্থানটি উন্মুক্ত রয়েছে কিন্তু দফায় দফায় দখল করতে আসে বিভিন্ন গ্রæপ। এসব বিষয় আদাবর থানার ৩০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহিদ হোসেন (জন) বলেন, অ্যাম্বুলেন্স এবং ক্যান্টিনটি আমার বাবার ইজারা নেওয়া। সেই সুবাদে আমি এগুলো নিয়ন্ত্রণ করব আমাদের ৪০টির মতো অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় (জন) এবং তার লোকজন একজনকে মারতে মারতে গেটের বাইরে বের করছেন, ওই ব্যক্তির নাম মাসুম। এ সময় জনের সঙ্গে থাকা সাদা শার্ট পরা একজনের হাতে পিস্তল ছিল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ব্যক্তি আদাবর সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় থাকে এবং বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। পুলিশ এখনো ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে পারেনি। তবে এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিস্তল হাতে ব্যক্তির নাম রাজন তিনি আদাবর সুনিবিড় হাউজিং এর বাসিন্দা। এসব বিষয় শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক মুঠোফনে জানান, এখানে দুটি গ্রæপ রয়েছে একটি হচ্ছে মালিকপক্ষ অন্যটি হচ্ছে চালকপক্ষ। এদের মধ্যে বাকবিতন্ডার জেরে দুই গ্রæপই দুটি জিডি করেছে, আমরা তদন্তকরে ব্যবস্থা গ্রহণ করব ।