সুমন ভট্টাচার্য( ময়মনসিংহ):
আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। মহালয়ার ধ্বনির সঙ্গে সুর মিলিয়ে মন্ডপে মন্ডপে এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। কারিগরদের হাতের ছোঁয়ায় মাটির প্রতিমা যেন প্রাণ পাচ্ছে, আবার রঙ ও সাজসজ্জায় ভেসে উঠছে দেবদেবীর অপরূপ রূপ। ময়মনসিংহ জেলায় এ বছর ৭৮১টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা।
উৎসবকে ঘিরে শহর ও গ্রামজুড়ে বইছে আনন্দ ও প্রস্তুতির জোয়ার।প্রতিমা তৈরির শেষ কাজ মন্ডপে ঢুকলেই দেখা মিলবে কারিগরদের ঘর্মাক্ত ব্যস্ততার। প্রতিমা শুকিয়ে যাচ্ছে রোদের তাপে, আর শিল্পীরা তুলির টানে দিচ্ছেন শেষ রঙের আঁচড়। কেউ মুকুট বসাচ্ছেন, কেউ হাতে তুলে দিচ্ছেন অস্ত্র। তবে উপকরণের দাম বেশি ও পারিশ্রমিক কম হওয়ায় হতাশ শিল্পীরা। তবুও পূজা ঘিরে ভক্তদের আনন্দের কথা ভেবে তারা হাসিমুখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দূর্গাবাড়ীতে কারিগর রাজীব পাল বলেন, “এবার খরচ বেড়েছে অনেক, কিন্তু মজুরি তেমন বাড়েনি। তারপরও প্রতিমার কাজে মন প্রাণ ঢেলে দিচ্ছি, কারণ দুর্গাপূজা শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য।”
সাজসজ্জা আর আলোয় ঝলমল মন্ডপ শহরের প্রতিটি মন্দিরে এখন চলছে আলোকসজ্জার প্রস্তুতি। কোথাও রঙিন কাগজে তৈরি ফুল, কোথাও ঝলমলে লাইট ঝুলছে সারি সারি। সন্ধ্যা নামলেই পূজামন্ডপগুলো আলোকিত হয়ে উঠছে উৎসবের আবহে। ভক্তদের পদচারণায় জমে উঠবে প্রতিটি মন্ডপ, মিলনমেলায় রূপ নেবে চারপাশ। ভক্ত পপি ভট্টাচার্য বলেন, সারা বছর অপেক্ষা করি এই ক’দিনের জন্য। মন্ডপে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আনন্দ সব মিলিয়ে দুর্গাপূজা আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ উৎসব।
নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থাঃ
পূজা উদ্যাপন পরিষদ ময়মনসিংহ শাখার যুগ্ম সম্পাদক শংকর সাহা জানিয়েছেন, সুষ্ঠুভাবে পূজা আয়োজনের জন্য প্রতিটি মন্ডপে নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম বলেন, পূজামন্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং একটি কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। নিরাপত্তায় ১ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি র্যাব ও আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
উৎসবমুখর ময়মনসিংহ আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়া দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকতা। সেই দিন থেকেই ভক্ত-অনুরাগীরা ছুটে আসবেন মন্ডপে মন্ডপে। পূজার দিনগুলোতে শুধু ধর্মীয় আচার নয়, সামাজিক স¤প্রীতির মিলনমেলাও হবে এক উৎসব। আলো, রঙ আর ভক্তির সমন্বয়ে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা ময়মনসিংহে রঙিন করে তুলবে শহর ও গ্রামকে।