নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এর অলিখিত সম্রাট – ইইডির প্রধান কার্যালয়ের ডেস্ক ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহাজাহান আলী। ইইডির দূর্নীতিবাজ সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোঃ দেলোয়ার হোসেন মজুমদার এর হাত ধরে যার উত্থান।
তবে ইইডির সমস্ত নিয়ন্ত্রণই এখন তার হাতে।কোন প্রধান প্রকৌশলী তার ইচ্ছেমতো না চললে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে মন্ত্রণালয় কে ম্যানেজ করে তাকে ওএসডি বা বদলী করে নানাভাবে হয়রানি নাস্তানাবুদ করে ছাড়বে। কারণ ইইডির পরিচালন বাজেটের বিভিন্ন কোডের প্রায় দুই হাজার(২০০০) কোটি টাকার বাজেট তার ডেস্কের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়। এছাড়া ইইডির সবচেয়ে বড় প্রকল্প যেমন : ১। ৩২৯ টি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প ২। ১০০টি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প ৩। ৩২৩ টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় একাডেমিক ভবন নির্নান শীর্ষক প্রকল্প ৪। ভূমি জরীপ কলেজ স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পসহ ইইডির সমস্ত বড় প্রকল্প শাহাজাহান আলীর কব্জায়।
দেলোয়ার হোসেন মজুমদার সমস্ত ডেক্সের কাজ কেটে নিয়ে এই শাহাজাহান আলীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছে। সেই ধারা এখনো অব্যাহত আছে।পরপর ২/৩টা প্রধান প্রকৌশলী পরিবর্তন হলেও শাহাজাহান আলীর দাপট কমেনি একটুও বরং বেড়েছে।
সাবেক প্রধান প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার এর চাকরির মেয়াদ শেষ হবার পর এই শাহাজাহান আলীর মাধ্যমে সারা দেশের নির্বাহী প্রকৌশলীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে পতিত সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে ৫০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে দুই বছরের জন্য মেয়াদ বাড়িয়ে দেলোয়ার হোসেন মজুমদারকে প্রধান প্রকৌশলী পদে বসানোর পিছনে মূল ভূমিকা ছিল এই শাহাজাহানের। সাবেক সচিব সোলেমান খানসহ মন্ত্রণালয়ের সবার কাছে টাকার বস্তা পাঠানোর কাজটা এই শাহজাহান আলীই করেছে।পরিচালন বাজেটের আওতায় সমস্ত কর্মসূচি যেহেতু শাহাজাহান আলীর দায়িত্বে ছিল সেখানে বিভিন্ন সচিব এবং মন্ত্রীকে ম্যানেজ করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার বাইরে শত শত কোটি টাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা নতুন ভবন এবং মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দ পত্র টাকার বিনিময়ে দিয়েছে এই শাহাজাহান আলী। ২০২২ -২০২৩,২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের জন্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক অনুমোদিত তালিকার বাইর কতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর অনুমোদন অবৈধভাবে দিয়েছে তা তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে। শাহাজাহানআলী সাবেক ২জন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এলাকায় চাকরির করার সময় অনেক দাপট দেখিয়েছেন।সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী এবং শিক্ষা সংসদীয় কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদকে ম্যানেজ করেছে এই শাহাজাহান আলী।
আগস্ট ২০২৪ এর গণ অভ্যুত্থান এর পর ইইডির সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী দের আন্দোলনের মুখে পতিত সরকারের সময় এক্সটেনশন পাওয়া সাবেক প্রধান প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।পরবর্তীতে অনেকের চেয়ার পরিবর্তন হলেও ইইডির রাজত্ব শাহাজাহান আলীর হাতেই রয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের বেশিরভাগ কর্মকর্তাই শাহাজাহান আলীর ভক্ত।কারণ কাউকে গাড়ি, কাউকে উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ পাইয়ে দেয়া , কাউকে চাদপুরের ইলিশ , আমের সময় আম ,লিচু অথবা খেজুরের গুড় যে যেটা পছন্দ করে তাকেই তিনি সেভাবে ম্যানেজ করে টিকে আছেন। কোন কোন কর্মকর্তাকে মাস ওয়ারি খাম পৌছে দেন এই শাহাজাহান।
ইইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আলতাফ হোসেন একজন পরিপূর্ণ সৎ লোক কিন্তু তাকে পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাজেহাল করছে এই শাহাজাহান গং। প্রধান প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন যেহেতু কমিশন নেন না তাঁর টাকাটায় শাহাজাহান আলী আদায় করেন এবং বিভিন্ন জায়গায় দিয়ে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর পদ থেকে সরিয়ে দেয় এই শাহাজাহান গং।চীফ ইঞ্জিনিয়ার কর্মকর্তা বদলীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও জনাব শাহাজাহান আলীর মনমত না হলে কারো সাধ্য নেই সেটা বাস্তবায়ন করা। ইইডির অলিখিত গডফাদার এই শাহাজাহান আলী।
ইইডিতে প্রকৌশলী পদে দুইভাবে নিয়োগলাভ করে।একটি সরাসরি নিয়োগ এবং আর একটা বি সিএস নন ক্যাডার থেকে নিয়োগ।জনাব শাহাজাহান আলী যেহেতু বি সি এস নন ক্যাডার থেকে নিয়োগ পেয়েছে সে কারণে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকৌশলী দের বিরুদ্ধে তার অবস্থান।সম্প্রতি ইইডির সহকারী প্রকৌশলীদের একটি জ্যেষ্ঠতা তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে যেখানে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের বঞ্চিত করে বি সি এস নন ক্যাডার হিসেবে যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদেরকে অবৈধভাবে সিনিয়র করা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা মামলা করেছে।ইইডির প্রকৌশলীদের ঐক্য বিনষ্ট করে পরিবেশ নষ্ট করার মূলহোতা এই শাহাজাহান আলী। মোঃ শাহাজাহান আলী এবং বর্তমান শিক্ষা উপদেষ্টার পি এস একই বিল্ডিং এ থাকেন। এই পি এস কে ম্যানেজ করেই সব অপকর্ম করছেন এই শাহাজাহান। শাহাজাহান এর কারসাজিতে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কে সরিয়ে নতুন প্রধান প্রকৌশলী বসানো হয়েছে।এর কাজে বড় ধরনের লেনদেন হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।
২০২৪ সালে ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থান এর সময় শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর বাসায় আগুন ধরিয়ে দিলে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার এবং ইইডি ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাজাহান আলীর নেতৃত্বে শিক্ষাভবনে মিছিল করতে বাধ্যকরে ইইডির কর্মকর্তা কর্মচারীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তত্ত্বাবদায়ক প্রকৌশলী জানান,ইইডিকে দূর্নীতিমুক্ত করতে হলে শাহজাহানের খপ্পর হতে প্রধান কার্যালয়কে বাচাতে হবে।