নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা ওয়াসা মডস জোন-৯এর নির্বাহী প্রকৌশলী জুনায়েদ আবু ইয়াসীরের বিরুদ্ধে হয়রানী মূলক সংবাদ প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি নিজেই। দৈনিক আমাদেও কণ্ঠের প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, গত ২৫ মার্চ ২০২৬, ২৬ মার্চ ২০২৬, ২৭ মার্চ ২০২৬, ২৯ মার্চ ২০২৬ এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে (দৈনিক পাঞ্জেরী-২৫ মার্চ ২০২৬ অনলাইনে, ২৯ মার্চ ২০২৬ প্রিন্ট মিডিয়ায়-পৃষ্ঠা ১ ও ৭; দৈনিক স্বাধীন সংবাদ- ২৫ মার্চ ২০২৬ অনলাইনে, ২৬ মার্চ ২০২৬ প্রিন্ট মিডিয়ায়- পৃষ্ঠা ৮ ও ৩; দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি- ২৭ মার্চ ২০২৬ অনলাইনে, ২৯ মার্চ ২০২৬ প্রিন্ট মিডিয়ায়- পৃষ্ঠা ১ ও ২, টাইমস অব বাংলা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ অনলাইন মিডিয়া) এ আমার বিরুদ্ধে দূর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে এবং অভিন্ন শিরোনামে একই ধরণের সংবাদ প্রকাশিত হয়।
তিনি বলেন,প্রকাশিত সংবাদে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। কোন প্রকার প্রমাণ বা যাচাই-বাচাই ব্যতিরেকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি করে চাকুরি গ্রহণের অভিযোগটি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য অসম্মানজনক, মানহানিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রনীত। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন যে, বিগত আওয়ামী সরকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা সনদ এবং এতদ সংক্রান্ত তথ্যাদি একাধিক বার যাচাই-বাচাই করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার আউটসোর্সিং নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বানিজ্য করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছি মর্মে আপনার প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন,সকল প্রকার আউটসোর্সিং নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি ঢাকা ওয়াসার পৃথক প্রশাসন শাখা হতে নির্ধারণ করা হয়। একজন সহকারী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন, প্রদান, অনুমোদন বা প্রভাবান্বিত করার ষ্পষ্টত সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে যে অনিয়ম বা আর্থিক সংশ্লিষ্টতার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন ও বাস্তবতা বিবর্জিত। তাছাড়া গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির বিগত ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারী জাতীয় নির্বাচনে প্রকৌশলীদের করনীয় শীর্ষক সেমিনার এবং ৪ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে এক বিশেষ জুম মিটিং এ আমার উপস্থিতি বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। ঐ সকল জুম মিটিংএর ভিডিও ফুটেজ বা সেমিনারের স্থিরচিত্র যাচাই বাচাই ব্যতিরিখে এমন মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য প্রচার বাস্তবিক উদ্দেশ্যপ্রনীত এবং মানহানিকর।
অপরদিকে প্রকাশিত সংবাদে তাকে জাহাঙ্গীর কবির নানকের ভাগ্নির জামাই হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা। বর্ণিত ব্যক্তির সাথে পারিবারিক, বৈবাহিক সূত্রে বা স্থানীয় পর্যায়ে আমার বা আমার পরিবারের কোন সদস্যের সাথে কোন প্রকৃতির আইনত সম্পর্ক নেই। এমন অসত্য তথ্য প্রদান নিতান্তই উদ্দেশ্যপ্রনীত। স্বৈরাচারি আওয়ামীলীগের শাসন দীর্ঘায়িত করার জন্য পৈশাচিক কায়দায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ইন্ধনদাতা ও অর্থায়নকারী হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে প্রকাশিত সংবাদে উপাখ্যান দেয়া হয়েছে। এমন অসত্য, মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন,আমি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছি। প্রাসঙ্গিক কারণে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে ছাত্র রাজনীতির সুযোগ নাই। পাশাপাশি আমি স্থানীয় ভাবে বা নিজ জেলায় কোনো প্রকার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত নেই। তাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ইন্ধনদাতা ও অর্থায়নকারী এমন উপাখ্যান প্রকাশকের নিজস্ব মনগড়া, অযৌক্তিক এবং বানোয়াট।
অত্যন্ত আপসোসের স্বরে তিনি বলেন,উল্লেখিত প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুলোতে মোহাম্মদপুরে একটি, ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ফ্ল্যাট, ঢাকায় প্লট ও প্রাইভেট গাড়ি, নিজ গ্রামে একাধিক সম্পত্তি এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে কোটি টাকার এফডিআর আছে এমন সকল অসত্য, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ পরিবেশনে আমার কর্মক্ষেত্র এবং পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে ভাবমুর্তি ও মর্যাদা চরম ভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। পাশাপাশি আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আয়কর ফাইলে সম্পদের তথ্য গোপন করে নিয়মিত আয়কর ফাকি দিয়ে যাচ্ছি এজাতীয় বানোয়াট তথ্য পরিবেশনের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে আমি দৃঢ়চিত্তে জানাতে চাই আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির কোনো প্রকার তথ্য গোপন না করে প্রতি অর্থবছরে নিয়মিত ভাবে আয়কর পরিশোধ করে আসছি। প্রকাশিত সংবাদের বিভিন্ন অংশে আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের এবং পদত্যাগী প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের দোসর/ অন্যতম সহচর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা/কর্মচারী হিসেবে কর্মক্ষেত্রে, স্থানীয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা নিজ জেলায় কোনো প্রকার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত ছিলাম না। বরং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে এবং ঢাকা ওয়াসার চাকুরীর প্রবিধানমালার আলোকে মন্ত্রনালয় এবং অত্র সংস্থা হতে জাড়িকৃত সকলপ্রকার প্রশাসনিক আদেশ, নির্দেশ মানতে সর্বদাই বাধ্য। অন্যথায় চাকুরী প্রবিধানমালা বিধি-২ এর আলোকে যা অসদাচরন বা শৃঙ্খলা পরিপন্থি মর্মে গণ্য হবে।
প্রিন্ট ও অনলাইন সকল মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের শেষ অংশে প্রকল্পে দীর্ঘকাল পদায়ন এবং প্রকল্পটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেছি মর্মে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় কতিপয় চাদাঁবাজ এবং স্বার্থন্বেষী মহলের প্ররোচনায় ২০১৪ সালে জামাত/বিএনপির ট্যাগ দিয়ে একপ্রকার শাস্তি সরুপ গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পে পদায়ন করা হয়েছিল। তথাপি মেধা, মনন ও প্রজ্ঞা দিয়ে প্রকল্পটি সফল বাস্তবায়নে নিরলশ চেষ্টা করেছি। এবং ইতোমধ্যে প্রকল্পটি প্রায় ৯০% ভৌত অগ্রগতি সফল ভাবে অর্জিত হয়েছে। এবিষয়ে উল্লেখ থাকে যে, প্রকল্পটি ডিপিপির বর্ণিত নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলীদের কোনো আর্থিক অনুমোদনের এখতিয়ার ছিল না। একাজে নিয়েজিত বৈদেশিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সমূহের সুপারিশ অনুমোদন পরবর্তী প্রকল্প পরিচালক বা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ঐঙচঊ বা সংস্থার প্রধান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর্থিক অনুমোদন দিয়ে থাকেন। তাই প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে প্রকল্পটি আমার কর্তৃক দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত করা হয়েছে এমন তথ্য একান্তই প্রতিবেদকের মনগড়া, ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতা বিবর্জিত। শুধুমাত্র ব্যাক্তি চরিতার্থ হরনের জন্যই এমন সকল অসত্য তথ্য আপনার কর্তৃক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: অন্যান্য সংবাদ, প্রকাশিত সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম