শাহিন চৌধুরী
ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদ যেন এখন সেবা কেন্দ্র নয়, বরং অভিযোগ আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মানববন্ধনে ব্যর্থ হয়ে ফেটে পড়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।অতিরিক্ত অর্থ আদায়, একের পর এক বদলি তবুও বহাল তবিয়তে। কার ছত্রছায়ায় এমদাদ-জামালের অপকর্ম থামছেনা কিছুতেই। শুক্রবার (৩ মার্চ) সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন করার জন্য ব্যানারসহ লোকজন নিয়ে জরো হলে অদৃশ্য কারনে ব্যর্থ হয়ে সকলে একত্রিত হয়ে ইউপি সচিব এমদাদ ও তার সহকারী জামালের বিরুদ্ধে হোল্ডিং ট্যাক্স, জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবার নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তোলা হয়। এলাকাবাসিদের মধ্যে ঘরোয়া মিটিংএ গনমাধ্যকর্মীদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত সরকারী ফি থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয় না। নির্দিষ্ট টাকার বাইরে মোটা অঙ্ক না দিলে কোনো কাজই সম্পন্ন হয় না। এবং ট্রেড লাইসেন্স ওয়ারিশ সনদের জন্য গেলে সচিবের একান্ত কক্ষে নিয়ে গোপনে মোটা অংকের টাকার বিনিময় সেবা পেতে হয়। একাধিক অভিযোগে বলা হয় জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিক সনদের জন্য টাকা জমা করলে তাহার রশিদ দেয়া হলেও ট্রেড লাইসেন্স ও ওয়ারিশ সনদের টাকা জমা করলে এমদাত ও জামাল কোন ধরনের রশিদ দেয় না। গোপনে একান্ত ভাবে টাকা জমা করে চলে যেতে বলেন।এদিকে গনমাধ্যমকর্মী কাছে থাকা গ্রাম পুলিশ মামুনের বিরুদ্ধে সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মোটা অংকের টাকার নেয়ার ভিডিও ফুটেজ সচিব এমদাদের মোঠ ফোনে পেরন করলে তিনি কোন আমলে না নিয়ে দুর্নীতি কে প্রশ্রয় দিয়ে গ্রাম পুলিশ মামুনকে কাছে টেনে নেন।এ ঘটনায় এখন বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কেন হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।এই অনিয়ম কি প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে চলছে, নাকি নীরব সম্মতিতে চলছে এই দুর্নীতি।অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সচিব এমদাদের কর্মজীবনের প্রায় প্রতিটি অধ্যায়ই দুর্নীতির অভিযোগে কলঙ্কিত। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তারানগর ইউনিয়ন পরিষদে। এরপর নারিশা, কালন্দী,সাভারের ভাকুর্তা, কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ও রোহিতপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিটি জায়গায়ই নানা অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগে বেশিদিন টিকতে পারেননি তিনি। জনমনে নানা প্রশ্ন একাধিকবার অভিযোগে বদলি হওয়া একজন কর্মকর্তা কীভাবে বারবার গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পান তার পেছনে কি কোনো প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় রয়েছে দুর্নীতির সিন্ডিকেট’ গঠনের অভিযোগ শাক্তা ইউনিয়নে যোগদানের পর আওয়ামী লীগের আমলে এখানে নিয়োগরত সহকারী ইউপি সচিব জামালকে সঙ্গে নিয়ে এমদাদ একটি শক্তিশালী দুর্নীতির চক্র গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অতিরিক্ত টাকা ছাড়া এখানে কোনো কাজ হয় না। সেবা নিতে গেলে ঘুষ যেন বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,ঘুষখোরদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত করতে বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি। মানববন্ধন করতে পারলেও আমরা দ্রæত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ইউপি সচিব ও তার সহকারী ও গ্রাম পুলিশ মামুনকে অপসারণ এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।এ বিষয়ে শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা শিক্ষা অফিসার হালিমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি উপজেলা উর্ধতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।এবং পরিষদের ইউপি সচিবদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আমার নজরে পরেনি আমিও ওৎ পেতে আছি।কিন্তু গ্রাম পুলিশ মামুনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি এর আগে তাকে একাধিকবার শোকজ করেছিলাম।আপনারা আমাদের সহযোগিতা করলে আমি শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদের জন্য আরো ভালো করতে পারবো।
এত অভিযোগের পরও কেন এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন অভিযুক্তরা।একাধিক এলাকাবাসীদের প্রশ্ন, দুর্নীতির এই চক্র ভাঙতে প্রশাসন কবে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে। ভুক্তভোগীদের এই ক্ষোভ আর প্রতিবাদের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা দ্রæত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। উক্ত বিষয়ে শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব মোঃ এমদাদ ও সহকারী জামালের কাছে মোঠ ফোনে জানতে চাইলে বলেন, সহকারী জামালকে পাওয়া না গেলেও ইউপি সচিব এমদাদ কথা এরিয়ে বলেন আমরা পদক্ষেপ বিয়েছি সব ঠিক হয়ে যাবে। #
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: জাতীয় সংবাদ, দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম