সোনারগাঁও কাজী ফজলুল হক উইমেন্স কলেজে অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সোনারগাঁও কাজী ফজলুল হক উইমেন্স কলেজে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম ফিলাপ ও অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
জানা যায়, নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে নরসিংদী জেলার বাসিন্দা বিশিষ্ট শিল্পপতি মরহুম কাজী ফজলুল হক নারী শিক্ষার উন্নয়ন, স্বল্প খরচে শিক্ষার সুযোগ এবং মেধাবী ও স্বল্প আয়ের পরিবারের মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং জমি দান করেন। তবে বর্তমানে সেই লক্ষ্য থেকে কলেজটি অনেকটাই সরে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কলেজটিতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর পরিচালনা কমিটি নেই। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের পদ টিকিয়ে রাখতে নিজস্ব শিক্ষক-শিক্ষিকা প্যানেল বা সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকার কারণে প্রধান শিক্ষক কলেজে কতটা সময় দিতে পারছেনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মস‚চিতে অংশগ্রহণের কারণে কলেজে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগও রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজে উন্নত মানের পাঠদান ও প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। নেই ভালো মানের ক্যান্টিন কিংবা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত যাতায়াত সুবিধা। এর পরেও বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি একটি বিষয়ের পরীক্ষার জন্য ফরম প‚রণ করতে কলেজে গিয়ে আর্থিক সমস্যার কথা কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুন মাহমুদ ও শিক্ষক মইনুল হককে জানান। এরপর তাকে নতুন করে ভর্তির জন্য দুই হাজার টাকা, মিলাদ খরচ, পরীক্ষা ফি, কলেজ উন্নয়ন ফি ও বিদ্যুৎ ফিসহ মোট ৬ হাজার ৮০০ টাকা দিতে বলা হয়। তবে ফরম ফিলাপ ও সরকারি ফি বাবদ একটি রশিদে ১ হাজার ৫৫০ টাকা এবং আরেকটি রশিদে বাকি টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমি তো এই কলেজেরই ছাত্রী। তাহলে আমাকে আবার কেন দুই হাজার টাকা দিয়ে নতুন করে ভর্তি হতে হবে?
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান বলেন, যে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা খারাপ করেছে, সে বিষয়ে পড়াশোনার মান উন্নয়নের জন্য কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্লাস নিয়ে বেতন নিতে পারে। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি ছাড়া ভর্তি ফি নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর ফকির নুরুজ্জামান বলেন, তাদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বোর্ড নির্ধারিত ফি নেওয়া যাবে। ভর্তি ফি বা অন্য কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। আমি এ বিষয়ে কলেজের প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলব।
কলেজের শিক্ষক ইমতিয়াজ বকুল জানান, অতিরিক্ত টাকা না নিলে কলেজের অন্যান্য খরচ কীভাবে মেটাব? আচ্ছা, বিষয়টি আমি দেখব। তবে পরবর্তী দুই দিন তাকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুন মাহমুদ বলেন, আগে তারা দুই বছরের জন্য ভর্তি হয়েছিল। এখন তারা এই কলেজে নেই, তাই দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। সরকারের কোনো নিয়ম বা নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যেদিন অফিসে থাকব, সেদিন এসে কথা বলবেন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ