নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঝালকাঠির রাজাপুর থানার অধীনে ইসলাম ধর্ম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ১৯ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা আমলে নিয়েছেন আদালত। গত ৪ঠা জানুয়ারি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন কবির মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী নজীর আহম্মদ অভিযোগ করেন, “এথিস্ট ইন বাংলাদেশ” নামের একটি অনলাইন ওয়েবসাইটে ইসলাম ধর্মকে উদ্দেশ্য করে বিদ্রুপাত্মক, আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করা হয়েছে। এসব লেখার মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি ফৌজদারী দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (সংশোধিত) আইনের ২৯৫, ২৯৫(ক), ২৯৮ ও ৩৪ ধারায় গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার নম্বর সি.আর.-০৩/২০২৬। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৫ই মার্চ ২০২৬ পরবর্তী শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালত মামলার পর্যালোচনাকালে মন্তব্য করেন, অভিযুক্তদের প্রকাশিত বক্তব্য সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে। পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ড ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট ও জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করার আশঙ্কা রয়েছে বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করেন।
এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজাপুর থানার গোয়েন্দা শাখাকে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গাজী আফতাবুন নেসা রিতি, সমীর হালদার, নুরুল আমিন, মোঃ তানভির হোসেন, সাব্বির আহমেদ, মোঃ জাকির হোসাইন, মোঃ মিজানুর রাহমান, বুরহান উদ্দীন, রাজীব সাহা, রুমানা পারভীন, মোসাম্মাত নাসরিন সুলতানা, মুনায়েম আহমেদ, গাজী মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, মোঃ মোশাররফ হোসাইন আরও কয়েকজন।
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
তদন্তের স্বার্থে সবদিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, “এথিস্ট ইন বাংলাদেশ” ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।