শেখ হাসিনা সহ কয়েকশত ব্যক্তির বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে হত্যার জের ধরে ঢাকার সিএমএম আদালতে নতুন হত্যা মামলা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

গতকাল ৬ই জুলাই ঢাকার মুখ্য হাকিম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১৫ নং এজলাসে (শাহবাগ থানা) ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে শেখ হাসিনা গংয়ের বিরুদ্ধে একটি নালিশি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর সি.আর মামলা নং-২৮৪/২৬। মামলাটি পেনাল কোডের ১০৯, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী সারদার সেলিম আলী। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৫০ জন সনাক্তকৃত আসামি এবং আরও ২০০/৩০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে। নালিশি মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতা-কর্মী, সমর্থক ও অর্থদাতাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ঢাকার শাহবাগ থানাধীন বাংলামোটর ওভারব্রিজের পশ্চিম পাশে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মোঃ রাসেল নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নালিশি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, আসামিদের নির্দেশ, প্ররোচনা ও অভিন্ন অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এ হামলা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাদী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় এবং আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপর বাদী আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেন।
মামলার নথিতে নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, মোঃ আসাদুজ্জামান খান কামাল, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, কামরুল আহসান পাভেল, পলি আক্তার লিজা, এনামুল গনি চৌধুরী, আ.স.ম. ওয়াহিদুজ্জামান, হাসান তারেক, মোঃ আব্দুল মান্নান, মির্জা সাইফুর রহমান, মাসুদ মিয়া, ফজলে রাব্বি, আবু বকর সিদ্দিক, রাব্বানী, মোঃ তানভীর হোসেন, সৌরভ মিয়া, আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, আলামিন, রাজু আহমেদ, মোঃ ইশতিয়াক হোসেন, মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, জুনায়েদ জুলকার নাঈন তিয়ান, মোঃ সোহানুর আলম, জুম্মন সাফওয়ান, তাসনিয়া তারানুম নওমি, মর্জিনা বেগম, লামিয়া সাদাব শান্ত, মোঃ আলা উদ্দিন, আব্দুল কাদের, মোঃ খলিলুর রহমান ওরফে খলিল ওরফে জামাই খলিল, হিরালাল দাস, মোঃ ইসহাক কবির, আবুল বাসেত মিয়া, সুলেখা বেগম, মোঃ জামাল, মোঃ কামাল, মোঃ রাসেল মিয়া, এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান, শেখ মামুন আল হাদি, মোঃ মনির হোসেন, আবদুল জাহের, হারুন রশীদ আজাদ, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ কাউছার মিয়া, মোঃ মিঠু মিয়া ওরফে কসাই মিঠু ওরফে বোমারু মিঠু, মোঃ জিয়াউল বেপারী, মোঃ কিবলি মিয়া, মোঃ কবির মিয়া, খান বেলায়েত হোসেন, শামসুদ্দোহা শিমু, মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, মোঃ পলাশ মিয়া, মোঃ আবদুর রহিম, আছাদুজ্জামান মিয়া, এস.এম মান্নান জাহাঙ্গীর, মনির ব্যাপারী, মোঃ মামুনুর রশীদ, সৈয়দ নুর নবী, মোঃ আজগর হোসেন চঞ্চল রাজ, মিথিলা আক্তার, মোঃ আলি আলম রিপন, মাহিন জামান, মোঃ ইউসুফ মোল্লা, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মোঃ সুফিয়ান বকাউল, রিপন, আল আমিন ভূঁইয়া, আলমগীর ভূইয়া, এবি এম আমিরুল ইসলাম, মোঃ কামরুজ্জামান ওরফে জুয়েল ডাকুয়া, মোঃ খোরশেদ আলম, মোঃ বদরুজ্জামান সুমন, হাসনত খান, মোহাম্মদ ইসাম, জহির খান, শামায়েল আলীম, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, রনজন চৌধুরী, আনিকা ইসলাম, নজরুল ইসলাম মজুমদার ওরফে হেলাল সাহেব, ওয়ালিদ ইসলাম মজুমদার, মোঃ সামাদ মোল্যা, মোঃ কামাল উদ্দিন, মোঃ হাসান আলী, মোঃ সাহিদুর রহমান, সজীব সরকার, সাজেদুল ইসলাম,  সামিয়া খানম তিশা, রায়হান ইসলাম জিহান, শফিকুল ইসলাম, মোঃ সোলেমান হাজারি, শাহনাজ মুনী, মাহফুজুর রহমান, আব্দুল্লাহ আদিল, রুপা, শাহেদ আহম্মেদ মজুমদার, কামাল আহম্মেদ মজুমদার সহ প্রমুখ।
মামলার নথিতে সাক্ষী হিসেবে বাদী সারদার সেলিম আলী, নিহত মোঃ রাসেলের পিতা মোঃ আবুল হাওলাদার এবং মাতা রাশেদা বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও সাক্ষী উপস্থাপনের কথাও নথিতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ ১৬ জুলাই ২০২৬।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ