গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাস কষ্টের রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ তদন্ত না করেই মামলা দায়ের ও অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ ও মামলা প্রত্যাহার ও আসামীদের নিঃশর্তে মুক্তির দাবিতে গাইবান্ধায় সড়ক আবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছে এলাকাবাসী।
২২ মার্চ দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের শোভাগঞ্জ বাজারের গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক আবরোধ করে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাকিউল ইসলাম রতন, আলমগীর হোসেন, মিথিলা খাতুন, নাজমুন্নাহার বেগম সুরুজ্জামান প্রমুখ।
বক্তরা বলেন, মৃত ছবিরান বেগম দীর্ঘ দিন থেকে শ্বাসকষ্ট ও উচ্চ রক্ত চাপে ভুগছিলেন। গত ১৬ মার্চ বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে উচ্চ রক্ত চাপ বাড়লে প্রথমে তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক রোগীর অবস্থা আশঙ্কা জনক দেখে সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেফার্ড করলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছবিরন বেগম (৬৫) মারা যান।
বক্তারা আরও বলেন, মৃত্যুর সংবাদ বাড়িতে পৌঁছামাত্রই রফিকুল ও তার লোকজন আব্দুল মজিদের বাড়ি ভাংচুর করে ও তাদেরকে রুমে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে খবর পেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এঘটনার কোন তদন্ত না করেই হত্যা মামলা দিয়ে আসামিদেরকে কোর্টে চালান করে পুলিশ। বক্তারা এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্তে মুক্তির দাবি জানান। সেই সাথে পূণ তদন্ত করে সঠিক তথ্য উদঘাটনের দাবি জানান বক্তরা।
পল্লী চিকিৎসক হয়দার আলী বলেন, ওইদিন বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে অসুস্থ্যতার সংবাদ পেয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখি ছবিরন বেগমের প্রচুর শ্বাস কষ্ট হচ্ছে সেইসাথে পেসার হাই। এমন অবস্থায় চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেই। তিনি বলেন, ছবিরান বেগমের মাথায় বা শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন দেখি নাই।
সরেজমিনে জানা যায়, জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৬ মার্চ দুপুরে জগড়া-বিবাদ হলে পরে তা মিটেও যায়। বয়স্ক ছবিরন বেগম দীর্ঘ দিন থেকে শ্বাসকষ্ট ও উচ্চ রক্ত চাপে ভুগছিলেন। ওইদিন বিকালে ছবিরন বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক থেকে সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ১৭ মার্চ সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছবিরন মারা যান। ছবিরনের মৃত্যুর সুযোগে রফিকুল গং আব্দুল মজিদ গংদের বাড়ি ভাংচুর করে ও তাদের রুমে তালাবদ্ধ অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে বিবাদী আব্দুল মজিদ পুলিশে খবর দিলে তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ অভিযোগ তদন্ত না করেই হত্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। এরপর থেকে বিবাদী পরিবার ও বাড়ি-ঘর বর্তমানে পুলিশ পাহাড়ায় আছে।
মামলার বাদি রফিকুল ইসলাম বলেন,আব্দুল মজিদ আমার মাকে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। মৃত্যু ছবিরানের পুত্রবধু বলেন,আমার শ্বাশুড়ির মাথায় আঘাত করলে আমরা ধরাধরি নিয়ে এসে মাথায় পানি দেই।রংপুর মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের কর্তব্য রত চিকিৎসক, রেজিস্ট্রার লেখেন no visible injury.
এ ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, কেউ মারা গেলে তদন্ত করে মার্ডার মামলা নিতে হবে? এটাকি মারামারি হইছে, যে তদন্ত করা লাগবে? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন ওনাদেরকেই জিজ্ঞাসা করেন, তদন্ত করে মামলা নিতে হবে, না মামলার পর তদন্ত হয়?
গ্রেফতাকৃতরা মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আব্দুল মজিদ (৬৫), আলম মিয়া (৬১), দছিজল হক (৬৩) ও তার ছেলে আক্তারুজ্জামান (২৮), একই এলাকার মৃত শরিফ উদ্দিনের ছেলে হযরত আলী (৬৫) ও তার ছেলে মিঠু মিয়া (৪৫) আলম মিয়ার ছেলে দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থী লাবিব মিয়া (১৪)।