যে ধরনের মানুষ থেকে বিরত থাকা উচিত- অভিজ্ঞতায় মোঃ রাহাত ইসলাম

মতামত | মোঃ রাহাত ইসলাম, সৃজনশীল সাংবাদিক
যে ধরনের মানুষ থেকে বিরত থাকা উচিত- অভিজ্ঞতায় মোঃ রাহাত ইসলাম
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

মতামত, মোঃ রাহাত ইসলাম, (সৃজনশীল সাংবাদিক):

জীবনের পথচলায় আমরা নানান ধরনের মানুষের সংস্পর্শে আসি। কেউ আমাদের এগিয়ে নেয়, আবার কেউ অদৃশ্যভাবে পিছিয়ে দেয়। একজন সৃজনশীল সাংবাদিক (মোঃ রাহাত ইসলাম) হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করেছি- ব্যক্তিগত উন্নয়ন, মানসিক শান্তিপেশাগত সাফল্য ধরে রাখতে হলে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের মানুষ থেকে সচেতনভাবে দূরে থাকা জরুরি।

২০১৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে দেখেছি, প্রতিকূলতার বড় একটি অংশ আসে ভুল মানুষ নির্বাচন বা ভুল সম্পর্কের কারণে। তবে আল্লাহর রহমতে ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণব্যক্তিগত উন্নয়ন-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে নিচে তুলে ধরা হলো- যে ধরনের মানুষ থেকে বিরত থাকা উচিত

১. ওয়াদা ভঙ্গকারী

এরা কখনোই আপনার সমস্যা উপলব্ধি করবে না। প্রতিশ্রুতি দেবে, কিন্তু সংকটের মুহূর্তে পাশে থাকবে না। ফলাফল- আপনি বিপদগ্রস্ত হবেন, তারা দায় এড়িয়ে যাবে।

২. মিথ্যা আশ্বাসকারী

বড় বড় স্বপ্ন দেখাবে, আশ্বাস দেবে, কিন্তু বাস্তবে আপনাকে ব্যবহার করবে। “ধৈর্য ধরুন” নামক অজুহাতে আপনার অগ্রগতি থামিয়ে দেবে। আপনার ক্যারিয়ার উন্নয়নব্যক্তিগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।

৩. অভিজ্ঞ দায়িত্বহীন

অনেকেই সত্যিই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, কিন্তু দায়িত্ব পালনে অনীহা। তারা অভিজ্ঞতার নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেয়; প্রতিষ্ঠান বা দলের উন্নয়ন-এ আন্তরিক নয়।

৪. দক্ষ অনভিজ্ঞ

দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পার্থক্য না বুঝলে সিদ্ধান্তে ভুল হয়। দক্ষতা হলো শিক্ষা থেকে অর্জিত জ্ঞান; অভিজ্ঞতা হলো বাস্তব কাজের মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত প্রজ্ঞা। শুধু দক্ষতার প্রচারণা দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়া যায় না- বাস্তব অভিজ্ঞতা জরুরি।

৫. প্রশংসা গীবতকারী

এরা সামনে প্রশংসা করে, পেছনে প্রপাগান্ডা ছড়ায়। সম্পর্কের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করে। গুপ্তঘাতকের মতো এরা অদৃশ্যভাবে ক্ষতি করে। এটি এক ধরনের নেতিবাচক মানসিকতা

৬. কৃতজ্ঞ বেঈমান

প্রয়োজনে আপনাকে মূল্য দেবে, প্রয়োজনে শেষ হলে সরিয়ে দেবে। আচরণে কৃতজ্ঞতার ছাপ রাখলেও সময়ের সঙ্গে তাদের প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়। এটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা

৭. দুষ্ট কটূক্তিকারী

“দুষ্টামি করেছি” বলে অশ্লীল বা অসামাজিক মন্তব্য করে। বাস্তবে যা মনে থাকে, তা-ই মুখে প্রকাশ পায়- শুধু ভিন্ন মোড়কে। নিজের আত্মসম্মান রক্ষায় এদের থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।

৮. স্থান-পাত্রভেদে উশৃঙ্খল

যেখানে শৃঙ্খলা প্রয়োজন, সেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। অন্যকে অপমান করাকে তারা বুদ্ধিমত্তা মনে করে। অথচ শৃঙ্খলা, সামাজিক ভারসাম্যশান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া কখনোই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

৯. লেবাসধারী মুসল্লি

ধর্মীয় আবরণে লোকদেখানো বক্তব্য ও ইবাদত করলেও আড়ালে গীবত, অনৈতিকতা, অসামাজিক কার্যকলাপঅপরাধমূলক আচরণ-এ জড়িত থাকে। এরা ক্যান্সারের মতো ধীরে ধীরে সম্পর্ক ও পরিবেশকে নষ্ট করে।

ব্যক্তিগত উন্নয়নই হোক বিকল্প পথ

প্রতিকূল মানুষের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে সময় ও শক্তি নষ্ট করার চেয়ে ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে বিকল্প পথে হাঁটাই শ্রেয়। নিজের মানসিক ভারসাম্য, আত্মসম্মান, ক্যারিয়ার গ্রোথজীবনের সফলতা ধরে রাখতে হলে সচেতনভাবে সম্পর্ক বাছাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বোপরি, জীবনের সাফল্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, মানসিক শান্তিইতিবাচক জীবনদর্শন বজায় রাখতে হলে সঠিক মানুষকে পাশে রাখা এবং ক্ষতিকর মানুষ থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত উন্নয়নই হোক আমাদের অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র- ইনশাআল্লাহ।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ

বিজ্ঞাপন