আলোচনায় বিভুরঞ্জন ও তার খোলা চিঠি

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

মো.ইউসুফ আলী

তিমির বিধারী সূর্য্যের আর্বিভাবের সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত পৃথিবী আসিয়া কষাঘাত করে আমাদের দুয়ারে। সংবাদপত্র তার ধারক ও বাহক। আমরা জানি,সংবাদপত্র হলো কোন রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। আবার সংবাদ পত্রকে জাতির দর্পণও বলা হয়ে থাকে। আর সাংবাদিক হলো জাতির বিবেক। আবার সাংবাদিকতা পেশাকে মহান পেশা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। কিন্তু সেই মহান পেশায় যিনি নিজেকে নিয়োজিত করে থাকেন সেই পেশাদারিত্ব সাংবাদিকরা কেমন জীবন যাপন করে থাকেন কিংবা তাদের হৃদয়ের অন্তরালে যে কত না বলা কথা লুকায়িত থাকে তার কিছুটা প্রকাশ পেয়েছে খ্যাতিমান সাংবাদিক ও কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকারের খোলা চিঠির মাধ্যমে। বিভুরঞ্জন সরকারের সর্বশেষ খোলা চিঠি পড়লে আপনিও বুঝবেন কীভাবে এই রাষ্ট্র, সমাজ এবং মানুষেরা একজন সৎ সাংবাদিককে ব্যবহার করে। নিজের খোলা চিঠিতে বিভুরঞ্জন সরকার নিজের ও ছেলের অসুস্থতা, মেডিক্যাল পাস সরকারি কর্মকর্তা মেয়ের উচ্চতর পরীক্ষায় ‘ফেল করা’, বুয়েট থেকে পাস করা ছেলের ‘চাকরি না হওয়া’ এবং নিজের আর্থিক দৈন্য নিয়ে হতাশার কথা লিখেছেন। সর্বশেষ একটা কলাম প্রকাশ নিয়ে চাপের কথাও বলেছেন তিনি। খোলা চিঠিতে প্রবীণ এ সাংবাদিকের পারিবারিক ও পেশাগত নানা সীমাবদ্ধতার কথা পড়ে অনেকের মনে প্রবলভাবে দাগ কেটেছে। বিশেষ করে নিখোঁজের আগে একটি অনলাইন পোর্টালকে মেইল করা খোলা চিঠিতে প্রবীণ এ সাংবাদিকের পারিবারিক ও পেশাগত নানা সীমাবদ্ধতার কথা পড়ে অনেকের মনে প্রবলভাবে দাগ কেটেছে। বিভুরঞ্জনের এভাবে চলে যাওয়া নারা দিয়েছে সারা জাতিকে । সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। ভীষণ ভালো মানুষ। সৎ মানুষ  ছিলেন বিভুদা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। বিভুরঞ্জনের অনেক লেখা আমি পড়েছি। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কলাম লিখেছেন। পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ভীষণ সৎ।  বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় এমন সৎ মানুষ খুব বেশি নেই। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠতম কলামিস্টদের একজন সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার। শেষ মেস মরিয়াই বিভু রঞ্জন প্রমান করে গেল যে, সত্য লিখে বাঁচা সহজ নয়। কী আক্ষেপ, হতাশা আর অভিমান নিয়ে তিনি চলে গেলেন, তা প্রতিটি শব্দে-অক্ষরে ফুটে উঠেছে তার জীবনের শেষ লেখায়। ২১ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বাসা থেকে বেড়িয়ে দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদী থেকে পাওয়া যায় এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার (৭১)’র মরদেহ। মৃত্যুর আগে একটি গণমাধ্যমকে একটি লেখা ইমেইলে পাঠিয়ে ‘নিখোঁজ’ হয়েছিলেন তিনি। তার ‘জীবনের শেষ লেখায়’ নিজের অর্থনৈতিক দৈন্যদশাসহ আরও বেশকিছু অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরাও এ ঘটনার পরের দিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম বঞ্চনা-শোষণের শিকার হওয়ার কথা লিখছেন। কারন বিভুরঞ্জনের মত আরো অনেক সিনিয়র সাংবাদিক আছেন,যারা দু:খ কষ্টকে সঙ্গী করেই জীবনযাপন করছেন। তাহলে সৎ ও  প্রকৃত সাংবাদিকরা কি এভাবেই জীবন বিসর্জন দিবেন ? আমরা এ-ও জানি যে,বাংলাদেশে সাংবাদিকদের পেশাগত নিপীড়ন-বঞ্চনার অভিযোগ নতুন নয়। তবে বিভুরঞ্জনের মৃত্যুর ঘটনায় আবার আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের পেশাগত আক্ষেপ-অভিযোগ। বিশেষ করে ‘খোলা চিঠি’ নামে বিভুরঞ্জনের একটি লেখা এবং এরপর নিখোঁজ হওয়া ও তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বঞ্চনা ও নিপীড়নের অভিযোগ আলোচনায় উঠে এসেছে আবার। খ্যাতিমান সাংবাদিক ও কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যুর খবরে ফেসবুক জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তাকে নিয়ে হৃদয়গ্রাহী স্মৃতিচারণ করেছেন। এছাড়াও অনেক সাধারণ মানুষও তার মৃত্যু নিয়ে নিজেদের বেদনাদায়ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।  বিভ’ুদা  তার খোলা চিঠিতে তাকে নিয়ে আরো লিখেছেন যে, আমি ক্ষুদ্র মানুষ। মনটাও সংকীর্ণ। সেজন্য আমার প্রতি সবাই বিদ্বেষ পোষণ করতেই পারে। আমি কিন্তু কারও প্রতি সামান্য বিদ্বিষ্ট নই। উপকার করার ক্ষমতা নেই বলে কারও অপকারের কথা স্বপ্নেও ভাবি না। নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। আমি যে খুব কম জানাবোঝা একজন মানুষ, সেটা আমি খুব ভালো জানি।

বিভুদা আরো লিখে ছিলেন যে, জীবনে কোনো সাফল্যের গল্প তার নেই। সাংবাদিক হিসেবেও এডাল ওডাল করে কোনো শক্ত ডাল ধরতে পারেননি। সে জন্য হয়ত তার জীবনের কোথাও না কোথাও বড় ঘাটতি আছে। এই ঘাটতি আর কাটিয়ে ওঠা হলো না। জীবনের শেষ লেখায় অনেক অভিযোগ ও প্রশ্ন রেখে গেলেন সাংবাদিক বিভুরঞ্জন। হায়রে জীবন ! তার লেখা খোলা চিঠি থেকে আজ আমরা অন্তত এতটুকুতো উপলব্দি করতে পারি যে,জীবনের যারা সততাকে বুকে আগলে  রেখে সৎ সাংবাদিকতা করেন তারা বিভুদের মতই ধুকে ধুকে মরেন। বিভুদা’র এভাবে চলে যাবার জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দু:খিত। বিশেষ করে আমাদের সাংবাদিক সমাজ আজ মস্তক অবনত করে নির্বাকের ভূমিকায়। আমাদের ক্ষমা করবেন, শ্রদ্ধেয় বিভু’দা।

                                                  লেখক-সাংবাদিক ও কলাম লেখক

 

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ