নিজস্ব প্রতিবেদক:
সমাজের অন্যায়-অবিচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে থাকেন জাতির দর্পণ খ্যাত সংবাদ কর্মীগণ। জনগনের নিকট সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে সমাজের মূল চিত্র জাতির কাছে তুলে ধরার দায়িত্বও সাংবাদিকদের। কিন্তু এই পেশার মধ্যেও কিছু অসাধু ব্যক্তি লুকিয়ে রয়েছে। যারা সাংবাদিকতার মূখোশের আড়ালে পবিত্র এই পেশার পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, হুমকি ও সন্ত্রাসীকর্মকান্ডের মত জঘন্য সব কর্মকান্ডে জড়িয়ে নিজ স্বার্থ হাসিলে মেতে ওঠেন।
এমনই একজন সাংবাদিক কেরাণীগঞ্জের গনি। যিনি কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের স্বঘোষিত সভাপতি । যিনি টাকা আর নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য সাংবাদিকতা পেশার দায়িত্বের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত নিজে এবং অসাধু সাংবাদিকের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তৈরি করেছেন অরাজকতার রাজত্ব ।
সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ ভূমি অফিসে এশিয়ান টিভির সাংবাদিকরা ভূমি অফিসের নায়েব রণজিতের ঘুষ গ্রহনকালে সরেজমিনে প্রতিবেদন করার সময় সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও হুমকি প্রদান করেন কেরাণীগঞ্জ প্রেসক্লাবের দখল সভাপতি গনি। শুভাঢ্যা ভুমি অফিসের দুর্ণীতিবাজ নায়েব রণজিতের দালাল হিসেবে তাকে রক্ষা করতে সেখানে ছুটে যান নামধারী সাংবাদিক সন্ত্রাসী গনি। যে কারনে শুভাঢ্যা ভুমি অফিসের দুর্নীতি আর অনিয়মের প্রমান হাতেনাতে পাওয়ার পরও তথ্য সংগ্রহকারি সাংবাদিকদের কাজে বাধা প্রদান করার জন্য গনি ও তার সহযোগী সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা মিলে এশিয়ান টিভির সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয় এবং তাদের ক্যামেরা কেড়ে নেয়। এসময় দেখা যায়, গনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জিম্মি করে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজসহ বেপরোয়া আচরণ করেন এবং ভূমি কর্মকর্তার সামনেই মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।
জানাযায়, গনি-সিন্ডিকেটের অন্যতম ক্যাডারের মধ্যে রয়েছে কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান ও দখল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামীম। সন্ত্রাসী গনিসহ এই তিনজনের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এক অরাজকতার রাজত্ব। গত জুনমাসে তাদের অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার জের ধরে মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের কন্ঠ ‘র সাংবাদিকের উপর হামলা ও অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়। এছাড়াও কেরানীগঞ্জ এলাকায় তাদের স্বার্থের বাহিরে কোন সাংবাদিক কাজ করলে তাদের হুমকি প্রদানসহ সংবাদকাজে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকান্ডে বহুবার প্রতিবাদ জানায় কেরানীগঞ্জ এলাকার সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকবৃন্দরা।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে এই সিন্ডিকেট ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করার ফলে কেরানীগঞ্জের অনিয়ম, দুর্নীতি আর সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করা ব্যক্তিবর্গের অন্যতম ভরসার স্থান হিসেবে গড়ে উঠছে। সাংবাদিকতার মুখোশ পরে তাদের এমন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ফলে অতিষ্ঠ হয়ে প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের নিকট যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কেরানীগঞ্জের মূল ধারার সাংবাদিকসমাজ ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গরা।