জামিনে বেরিয়ে আবারও প্রাণনাশের হুমকি
নিজস্ব প্রতিবেদক;
ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক আমদানি কারক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের জন্য ভয়ভীতি, হামলা ও দামী শিল্পযন্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আবু সুফিয়ান চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে চীফ জুডিসিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সি.আর মামলা নং-৯৯১/২০২৪ (কেরানীগঞ্জ) হিসেবে দায়ের করা এ মামলায় দণ্ডবিধির ৩৮৫/৩৮৬/ ৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. আবু সুফিয়ান একজন আমদানিকারক ও সরবরাহকারী ব্যবসায়ী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টস মেশিনারি ও এক্সেসরিজ আমদানির সঙ্গে জড়িত। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগরে অবস্থিত।
মামলার প্রধান অভিযুক্তরা হলেন মো. শাহাব উদ্দিন, পিতা মোছলেম সিকদার এবং মো. সোহাগ। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮/১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৮ জুন ২০২৪ তারিখ সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে বাদীর আমদানিকৃত একটি এম্বোডারি সিকুয়েন্স কাটিং মেশিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে গাড়ি থেকে নামানোর সময় ঘটনাটি ঘটে।
এ সময় অভিযুক্ত শাহাব উদ্দিন ও সোহাগসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন বাদীর দোকানে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে চাঁদার টাকা না দেওয়ার কারণে তারা এলসির মাধ্যমে আমদানিকৃত একটি এম্বোডারি মেশিন (LE No-0000320124010960, HS Code-84479000) জোরপূর্বক ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ছিনতাইকৃত মেশিনটির বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এসময় অভিযুক্তরা বাদী ও তার কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে “জীবনের জন্য শেষ করে দেওয়া হবে।”
বাদীর অভিযোগ, মামলার আসামীরা পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও আশপাশে এসে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বাদী জানান, আসামীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং হুমকি দিয়ে বলছে, মামলা চালালে তাকে ও তার পরিবারকে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে। এই অবস্থায় তিনি স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
বাদী আরও জানান, ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ মামলা এন্ট্রির আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করে এবং একপর্যায়ে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। এতে ন্যায়বিচার পেতে মামলা করতে বিলম্ব হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার এসআই ইউনুছ জানান, “এম্বোডারি মেশিন নেওয়ার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদনও দাখিল করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।”
আদালতের কাছে বিচার ও নিরাপত্তা প্রার্থনা
বাদী আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সাক্ষীরা বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করবেন।