গাইবান্ধায় সাঁওতালদের ওপর হামলা মামলা না হওয়ায় ক্ষোভ, পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

শহিদুল ইসলাম খোকন(গাইবান্ধা):
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় সংখ্যালঘু সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর ভ‚মিদস্যুদের বর্বরোচিত হামলা ও আহতের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভ‚মি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপি স‚ত্রে জানা গেছে, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভ‚মি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকের নেতৃত্বে সাঁওতাল ও বাঙালি কৃষকদের একটি শান্তিপ‚র্ণ মিছিল চলাকালে চিহ্নিত একদল ভ‚মিদস্যু ও সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় সিউলি মারডি, লুকাস মুরমু ও মামালি হাঁসদাসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের বর্তমানে গোবিন্দগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর তৎকালীন সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে সাঁওতাল পল্লীতে হামলায় ৩ জন নিহতের ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় আদিবাসীদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। স্থানীয় আতাউর রহমান সাবু, স্বপন শেখ ও আব্দুর রউফ বাবুসহ একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘকাল ধরে সাঁওতালদের পৈত্রিক জমি গ্রাস করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর আগে তারা আদিবাসী শিশুদের স্কুলের খেলার মাঠ দখলের চেষ্টা করলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা ব্যর্থ হয়। তবে ওই চক্রের ভয়ে স্কুলটির কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি।
ভুক্তভোগী আদিবাসীদের দাবি, হামলার দিনই (১২ এপ্রিল) গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযুক্ত ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দাখিল করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত মামলাটি রেকর্ড করেনি। মামলা না হওয়ায় এবং কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ভ‚মিদস্যুরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় সাঁওতাল ও সংখ্যালঘু পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
আদিবাসীদের দাবি:
সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভ‚মি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাঁসদা স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে জানানো হয়, সংখ্যালঘু ও সহজ-সরল হওয়ার সুযোগ নিয়ে ভ‚মিদস্যুরা তাদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে থানায় দাখিল করা এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে আসামিদের গ্রেফতার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাঁওতালদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সাঁওতাল নেতারা জানান, পৈত্রিক ভিটেমাটি রক্ষায় তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপ‚র্ণ লড়াই চালিয়ে আসছেন। কিন্তু বারবার হামলা ও আইনি অসহযোগিতার কারণে তারা আজ দিশেহারা। অবিলম্বে ন্যায়বিচার না পেলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ