পেশাদারিত্বই কাল হয়েছিল সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

গত (০৭ আগস্ট) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তায় বাদশা নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করছিলো সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনা অনেক মানুষ দেখছিলেন কিন্তু প্রতিবাদ করেননি। তবে প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দিতে হল ময়মনসিংহের আঞ্চলিক পত্রিকা প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে। আসাদুজ্জামান তুহিন সেদিন ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। তা দেখে ফেলে সন্ত্রাসীরা। পরে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় কুপিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় তাকে।
স্থানীয় মানুষ, ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চৌরাস্তা এলাকায় একাধিক ফিটিংস পার্টি ও ছিনতাইকারী রয়েছে। যারা চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অসামাজিক কাজে জড়িত। এই ফিটিং পার্টির তান্ডবের ভিডিও ধারণ ও সত্য উন্মোচনের ইচ্ছাকে ধারালো অস্ত্রের মাধ্যমে চিরতরে নিভিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। ভিডিও তথ্য প্রমাণে ওই ফিটিং পার্টির সদস্যদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান জানিয়েছেন, ‘হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের অপকর্মের ভিডিও করার কারণেই তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে। অতিদ্রত সময়ের মধ্যেই তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
কমিশনার জানান, সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত আট জনের মধ্যে গ্রেফতারকৃতরা হলেন- প্রধান আসামি কেটু মিজান, যার নামে ১৫টি মামলা রয়েছে। কেটু মিজানের স্ত্রী পারুল আক্তার ওরফে গোলাপি, যিনি হানিট্র্যাপ কার্যক্রমে জড়িত। আল আমিন, যার নামে ২টি মামলা। স্বাধীন, যার নামে ২টি মামলা। শাহজালাল, যার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। ফয়সাল হাসান ও সাব্বির, যার বিরুদ্ধে ২টি মামলা রয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-কমিশনার রবিউল হাসান জানান, নিহত তুহিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইলটি একটি হত্যা রহস্য উদঘাটনে একটি গুরুত্বপর্ণ আলামত। মোবাইলটি বন্ধ রয়েছে। মূলত যে মোবাইলটি দিয়ে সন্ত্রাসীদের কোপানোর দৃশ্যের ভিডিও চিত্র ধারণ করেছিলেন, সেই মোবাইলটির হদিস মিলছে না। মোবাইলটি উদ্ধার করা গেলে কারা হত্যায় জড়িত, সহজে চিহ্নিত করা যাবে।
এইদিকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার অন্যতম আসামি স্বাধীন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। শনিবার (৯ আগস্ট) গাজীপুর র‍্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার এসপি কে এম এ মামুন খান চিশতী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ