বিতর্কিত ইনচার্জ জহিরুল বহাল তবিয়তে ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

শাহিন চৌধুরী

ঢাকার কেরানীগঞ্জের আটিবাজার পুলিশ ক্যাম্প যেখানে থাকার কথা ছিল জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার নিশ্চয়তা, সেখানে এখন তৈরি হয়েছে অভিযোগ, ভীতি ও অনিয়মের এক ভয়াবহ চিত্র। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন কার্যত অভিযোগের পাহাড় এবং সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।একাধিক ভুক্তভোগী সরাসরি পুলিশ সদর দপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসী মোঃ রবিন (১০ ফেব্রুয়ারি), সাহেরা আক্তার (১৭ ফেব্রুয়ারি), এবং মোঃ শুভ, রিয়াদ, দিপেল, ইয়ামিন ও দিপু আব্দুলসহ আরও অনেকে (৩ মার্চ)অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৬ মার্চ পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে একটি তদন্ত টিম রবিনের বাসায় গিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ করে এবং এলাকাবাসীকে আইনের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে চলে যায়।কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন ও উদ্বেগজনক।ভুক্তভোগী রবিন অভিযোগ করে বলেন,তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত এসআই জহির আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।এমন পরিস্থিতি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগ নয়, বরং এটি আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এসআই মোহাম্মদ জহির (বিপি আইডি নং- ৮১০০০২৯৬৭১) চাকরিজীবনে একাধিকবার বিভাগীয় শাস্তি পেয়েছেন।২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শাস্তিমূলকভাবে দুর্গম এলাকায় সংযুক্তি,১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪: বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে শাস্তি,২৬ মে ২০১৩: এক নারীকে নিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে মারধরের ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা ।এমন একজন বিতর্কিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া এটি নিয়োগ ও তদারকির প্রক্রিয়া নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।সাধারণ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো হয়।প্রভাবশালী ও চিহ্নিত অপরাধীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।এমনকি জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে।ফলে আটিবাজার এলাকায় তৈরি হয়েছে এক ধরনের অঘোষিত ভয়ের রাজত্ব যেখানে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিচ্ছে।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রমাণিত হলে এসব অপরাধের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা। দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির দায় এবং পুলিশ শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী চাকরিচ্যুতি পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে।অতএব, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।এতগুলো গুরুতর অভিযোগের পরও এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, বিষয়টি সিনিয়র কর্মকর্তারা দেখবেন, এরপরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।অন্যদিকে, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বিষয়টি আংশিক অবগত বলে স্বীকার করে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। ঢাকা বারকাউন্সিলের একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তির প্রশ্ন। দ্রুত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। স্থানিয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন পুলিশ সদর দপ্তর কি এই অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে কার্যকর তদন্ত করবে, নাকি নীরবতার আড়ালে সবকিছু চাপা পড়ে যাবে।ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ