শাহীন মুন্সী(গোপালগঞ্জ):
মুকসুদপুর উপজেলার কৃষি অফিসার বাহাউদ্দিন সেখ ও তার আপন মামাতো ভাই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বশির আহমেদ মোল্লা (দুই ভাই) এর যোগসাজশে ৫শ এর অধিক পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের জন্য আসা বরাদ্দ আত্মসাতের ঘটনা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অপরদিকে পারিবারিক পুষ্টি বাগানের বরাদ্দ আত্মসাৎ করা ওই কৃষি অফিসার বাহাউদ্দিন সেখ পদোন্নতি পেয়ে ভোলা জেলার খামার বাড়িতে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক পদে পদায়ন পেয়েছেন।
এ বিষয়ে মুকসুদপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের সাধারণ নিরিহ কৃষকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক আমাদের কন্ঠ কে বলেন, আমরা অশিক্ষিত কৃষক মানুষ, আমাদের একবার ট্রেনিং, সার ও ওষুধ দিয়ে পাঁচ বার স্বাক্ষর নেয়ার রেকর্ড আছে মুকসুদপুর কৃষি অফিসের। আমাদের ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে পুষ্টি বাগান স্থাপনের জন্য প্রায় ২৫০ জন কৃষকদের মাঝে সার ঔসুধ, বীজ দিয়েছিল। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কিছুই দেয়নি। এখন লোকমুখে শুনতে পাচ্ছি ২৪-২৫ অর্থবছরেও আমাদের মুকসুদপুরের কৃষকদের জন্য ৫২১ টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য বরাদ্দ ছিল। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তারা আমাদেরকে না দিয়ে ঠকিয়েছে । নিরিহ কৃষকদের হক মেরে খেয়েছে, আমরা ওই কৃষি কর্মকর্তাদের বিচার চাই।
প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরের সূত্র বলছে, পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে উল্লেখিত কৃষকদের মাঝে ৫২১ টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপনের উদ্দেশ্য মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অনুকূলে বরাদ্দ দেয় প্রকল্প পরিচালক। এরপর একই প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে উল্লেখিত কৃষক ও পুষ্টি বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য পুনরায় ১০ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলার কৃষি অফিসের একটি গোপন সূত্রে আমাদের কন্ঠ কে জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বরাদ্দ পাওয়ার পর উপজেলার কৃষি অফিসার বাহাউদ্দিন সেখ ও তার আপন মামাতো ভাই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বশির আহমেদ মোল্লা যোগসাজশ করে ৫২১ টি পারিবারিক পুষ্টি বাগানের পরিবর্তে ২৫০টির মত পুষ্টি বাগান স্থাপন করান। বাকি ২৬১টি পুষ্টি বাগানের বরাদ্দ দুই মামাতো-ফুপাতো ভাই ও তৎকালীন আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে ভাগাভাগি করে ভোগ করেন। এরপর একই প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে উল্লেখিত কৃষক ও পুষ্টি বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য ১০ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত ও আত্মসাৎ কারী উপজেলার কৃষি অফিসার বাহাউদ্দিন সেখ ও তার আপন মামাতো ভাই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বশির আহমেদ মোল্লা বরাদ্দকৃত সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছে। পরে ভুয়া বিল ভাউচার ও মাস্টাররোল করে অফিসে সংরক্ষণ করেছে। পাশাপাশি অডিট অফিসারদের অর্থ দিয়ে সকল কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে মর্মে দেখিয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে আরো জানা গেছে, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বশির আহমেদ মোল্লা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় মুকসুদপুর উপজেলার কর্মরত আছেন। সে বেশি ক্ষমতা খাটানো ও দূর্নীতি, অনিয়ম করার উদ্দেশ্যে নিজের আপন ফুফাতো ভাই বর্তমান কৃষি অফিসার বাহাউদ্দিন সেখ কে ২০২২ সালে আওয়ামীলীগ নেতাদের সহযোগিতায় লবিংয়ের মাধ্যমে পোস্টিং করিয়ে আনেন। এরপর দুই ভাই মিলে ইচ্ছে মত অনিয়ম ও দূর্নীতি শুরু করেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তাদের সখ্যতা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে পারেনি। তাদের দূর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য যাতে বাহিরে যেতে না পারে সে কারনে বশির আহমেদ মোল্লা কে পশারগাতী ইউনিয়ন থেকে ডেভেলপমেন্ট সেকশনে ফাইলপত্র রক্ষণাবেক্ষণ ও হিসাব শাখায় বসান কৃষি অফিসার বাহাউদ্দিন শেখ।
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার বাহাউদ্দিন সেখ আমাদের কন্ঠ কে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। একটি স্বার্থন্বেষী মহল আমি ও আমার মামতো ভাইয়ের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এবিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলার নিবার্হী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পলাশ কুমার দেবনাথ বলেন, আমি মাত্র দুই মাস হল মুকসুদপুরের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। পূর্বের অনেক কার্যক্রম সম্পর্কেই আমার কোন ধারণা নেই। তবে কৃষকদের বরাদ্দ আত্মসাতের ঘটনার সত্যতা পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । #