সুমন ভট্টাচার্য :
ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালী থানার মীরকান্দাপাড়া গ্রামে ন‚রজাহান (৬০) নামের এক বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মো. রনি মিয়া (২৬)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ময়মনসিংহ জেলা। গ্রেফতারকৃত রনি মিয়া মীরকান্দাপাড়া গ্রামের রবিকুল ইসলামের ছেলে। পিবিআই জানায়, গত ২ মে ২০২৬ ৪টা ১৫ মিনিটে কোতোয়ালী থানার শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহত ন‚রজাহানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, নিহত ন‚রজাহান একাই বসবাস করতেন। স্থানীয়ভাবে ‘নানী’ বলে পরিচিত এই বৃদ্ধার সঙ্গে আসামি রনির ঘনিষ্ঠতা ছিল। রনি মাঝে মধ্যে তার প্রেমিকাকে নিয়ে নূরজাহানের বাড়িতে অবস্থান করতেন এবং এর বিনিময়ে ৫০০ টাকা দিতেন। তবে সর্বশেষ ওই টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় রনি ন‚রজাহানের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে আম্বিকাগঞ্জ বাজারে অপেক্ষা করে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নূরজাহান বাড়ির দিকে গেলে তাকে অনুসরণ করে বাড়িতে যায়। সেখানে প‚র্বের পাওনা টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে নূরজাহান বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রনি হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়ির ভেতরে থাকা মসলা বাটার শিল দিয়ে ন‚রজাহানের মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে। পরে লাশ রান্নাঘরের পাশে খড় দিয়ে ঢেকে রেখে তার মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার দুই দিন পর, ৩০ জানুয়ারি দিবাগত রাতে নুরজাহানের মেয়ের জামাই মোজাম্মেল খড়ের নিচে লুকানো অবস্থায় লাশটি দেখতে পান। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ন‚রুন্নাহার বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটি পিবিআই অধিগ্রহণ করে। অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এবং পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবশেষে রনি মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পিবিআই স‚ত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিম‚লক জবানবন্দি প্রদান করে। পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাত্র ৫০০ টাকার জন্য একজন বৃদ্ধাকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশ গোপন করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল আসামি। পিবিআইয়ের নিরলস প্রচেষ্টা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ